কিছুই জানেন না মাননীয়া পুলিশমন্ত্রী!রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যেমন বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। তেমনি শুরু হয়েছে নানা রকম জল্পনা চর্চা। কিন্তু এই ধরনের আলোচনা সমালোচনা চর্চা সবটাই ধীরে ধীরে দীর্ঘায়িত হচ্ছে কিন্তু বেশ কিছু পরিকল্পনা বলা ভালো প্যাটার্ন কে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে পুলিশের এই ভূমিকা। যেখানে ভবিষ্যতে এই প্যাটার্ন পুলিশের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞ মহলের। বর্তমানে আমরা যেমন দেখি তরফে মিথ্যে মামলা অপ্রত্যাশিত আচরণ গালিগালাজ করা সবটাই যেন বর্তমানে পুলিশের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু এই নতুন প্যাটার্নটি তাদেরকে যে আরও বড় হাতিয়ার হাতে তুলে সেটা একেবারে স্পষ্ট। এবারে প্যাটার্ন গুলি সম্বন্ধে একটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
বিশ্লেষকরা বলছেন প্রথমে যে প্যাটার্ন লক্ষ্য করা করা যাচ্ছে সেটি হল, রাজ্যে যখন কোন আন্দোলন শুরু হয়, তখন সে আন্দোলনকারীদের উপর অবাধে লাঠিচার্জ এবং অকথ্য গালিগালাজ, মারামারি ধস্তাধস্তি একেবারে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী মাননীয়া, তিনি সেখানে উপস্থিত থাকেন না, অর্থাৎ তাকেই চিনি লক্ষ্য করা যায় না হয় তিনি কলকাতার বাইরে রয়েছেন বা এমন কোন কাজ নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন যেখান থেকে তিনি বেশ কিছুদিন এই ঘটনার আবহাওয়া তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সেই সময় তাকে কোনরকম মন্তব্য করতে দেখা যায় না। কিন্তু এরপর বেশ কিছুদিন কেটে গেলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে সুর নরম করে জানান, যে এই বিষয় আমি তো কিছু জানতামই না। আমি তো অন্য কাজের জন্য ব্যস্ত ছিলাম এই বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত ছিলাম না, আমি উপস্থিত থাকলে এই ধরনের পরিস্থিতি কখনোই তৈরি হতে দিতাম না।
অর্থাৎ পুলিশের এই দানবিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন এই সমস্ত কথা মাধ্যমে। এবং মানবিকতার মুখ হয়ে মানবিক মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলেন। এবং তিনি সমস্ত কর্মকাণ্ডকে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে বলে আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন। আর অন্যদিকে রাজ্য পুলিশ তারা যে রাজ্য প্রশাসনের ইশারাতেই সমস্ত কর্মকাণ্ড চালায় সেটা সকলের কাছে স্পষ্ট। অর্থাৎ পুলিশের যে প্রটোকল রয়েছে সে প্রটোকল অনুযায়ী শীর্ষ আধিকারিকদের তরফ থেকে সবুজ সংকেত পেলেই শুরু হয় তাদের অ্যাকশন। অর্থাৎ নিজের সিদ্ধান্তে কখনোই পুলিশ একশন শুরু করতে পারেনা। তাই বলা যায় রাজ্য প্রশাসন সবুজ সংকেত দিয়ে আবার পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির সম্পর্কে অবগত না থাকার কথা বলে সাধারণ মানুষকে দমিয়ে রাখার একটি নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। রাজ্যে বর্তমান সময়ে যে ঘটনা প্রবাহ গুলি চলছে তাতে বারংবার এই মেথডটিই ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী ভাবছেন এ কৌশলে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছে।
এবার দ্বিতীয় প্যাটার্ন হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন এই ধরনের ঘটনার পর পুলিশদের শীর্ষ আধিকারিকরা এসে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন যেমন সাম্প্রতি চাকরিটা শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশ ও শিক্ষকদের মারধরের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে বসেছেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার ও এ ডি জি আইনশৃঙ্খলা জাবেদ শামীম। তারা সাংবাদিকদের সামনে এসে তিন ধাপের একটি অ্যাকশনের কথা উল্লেখ করেন। এ বৈঠকে তারা বলেন পুলিশ অত্যন্ত সংযত ছিল। ধৈর্যের সঙ্গে সংযত থেকে সংবেদনশীল থেকে গোটা পরিস্থিতি খুব স্বাভাবিকভাবেই নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ আধিকারিকরা। তারা বলেন সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে কিন্তু পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকেনি, পুলিশ সংযত থেকেছে, তারা ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছে। তারা আরও বলেন এরপর আমরা এই সংযম ভাঙতে বাধ্য হয়েছিলাম যখন একদল সাধারণ মানুষ কে আন্দোলনের ছেড়ে সমস্যায় করতে হচ্ছিল তখন তাদের সমস্যা সমাধানে আন্দোলনকারীদের একাংশের ওপর পুলিশ আধিকারিকরা চরাও হয় এবং বল প্রয়োগ করে। অর্থাৎ তাদের কথা এটা স্পষ্ট যে তারাই সংযম ভেঙে চড়াও হয়েছে , সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই।
একদল সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আরেকটা অসাধারণ মানুষকে লাঠিপেটা করতেও পিছ পা হননি তারা। যে বক্তব্য রেখেছেন সেখানে এটাও স্পষ্ট যে তারা ন্যূনতম আঘাত করেছে সাধারণ মানুষ অর্থাৎ আন্দোলনকারীদের উপর কিন্তু সেই ন্যূনতম আঘাতের ফলস্বরূপ দেখা যাচ্ছে কারণ মাথা ফেটে গেছে কারোর হাত পা থেকে রক্ত ঝরছে। এছাড়াও ওই বৈঠকে তারা জানান যে পুলিশের উপর যে সকল ব্যক্তি হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে এই ধরনের মামলা প্রায়শই দেখা গেছে হাইকোর্টে গিয়ে খারিজ হয়ে যায় কিন্তু যতদিন পর্যন্ত এই মামলা হাইকোর্টে গিয়ে পৌঁছাবে ততদিন অন্তত যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তাদেরকে মানসিক অত্যাচারে মধ্যে রাখা যাবে এই নতুন পরিকল্পনা শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। অর্থাৎ যে কোন সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা তাদের উপর চড়াও হয়ে বল প্রয়োগ করা সবটাই যেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে থিতিয়ে যাওয়ার নতুন পরিকল্পনা শুরু করেছে এই রাজ্য প্রশাসন, আর এই ধরনের নতুন অ্যাকশন গুলি এখন পুলিশের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।












Discussion about this post