পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হোক বা লোকসভা, বরাবরই বিরোধী দলগুলি দাবি করে এখানে সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হয় না। সে বাম আমলেই হোক, বা হালের তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধীদের মূল অভিযোগ, বিধানসভা বা লোকসভা ভোট জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আওতায় হলেও আসলে তা করান রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। আর পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ-প্রশাসন কার্যত শাসকদলের দলদাসে পরিনত হয়েছে বলেই দাবি, বিজেপি, কংগ্রেস ও বামদলগুলির। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কয়েকদিন আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে হিন্দুদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, যারা মূলত তৃণমূলের থেকে সরে এসে বিজেপির দিকে ঝুকছেন। বিজেপির অভিযোগে যে সারবত্তা আছে তা প্রমাণিত হল অচিরেই।
ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কারচুপির অভিযোগে কাকদ্বীপ মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম ম্যানেজারকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। অভিযুক্ত আধিকারিকের নাম অরুণ গড়াই। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, অবৈধভাবে লগিং আইডি হ্যাক করে ভোটার তালিকায় কারচুপির। অন্যদিকে ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগে দুই সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। এই ঘটনা নামখানায়। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকেই কাজ করেন ওই দুই অভিযুক্ত। এক জন ক্লার্ক এবং অপর জন সমবায় দফতরের ইন্সপেক্টর। অভিযোগ, দু’জনেই নামখানা বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত ছিলেন! মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ভূতুড়ে ভোটার ইস্যুতে সরগরম বাংলার রাজনীতি। তৃণমূলের রাজ্য সম্মেলনে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তার মধ্যে কমিশনের এই পদক্ষেপ যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবার কড়া নজরদারি শুরু করেছে। বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই ধরা পড়ছে একের পর এক গড়মিল। বেশিরভাগ অভিযোগই বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে। কেউ বাংলাদেশের সরকারি চাকুরে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভোটার। আবার কেউ বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভোটার। যেমন, বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনে নিউটন দাসের যোগ দেওয়ার ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। কিছুদিন আগে পর্যন্তও নিউটন কাকদ্বীপে থাকতেন। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে জন্ম হলেও পরিবারের অনেকে কাকদ্বীপে থাকার সূত্রে পরবর্তীতে এখানে চলে আসেন নিউটন।
কাকদ্বীপের টিএমসিপি নেতা দেবাশিস দাসের সঙ্গে নিজের জন্মদিনে কেক কাটতে দেখা গিয়েছে নিউটনকে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের মুখ টিএমসিপি করতেন? প্রশ্ন যাই হোক, এবার কার্যত আঁটঘাঁট বেঁধেই আসরে নামছে নির্বাচন কমিশন। দিল্লি থেকেই চলছে নজরদারি। সে কারণে ভোটার তালিকার কাজে যুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই এফআইআর করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এটা একটা বার্তা। ফলে কার্যত দলদাসে পরিণত হওয়া রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। চাকরিজীবনের লালকালি তো আছেই, চাকরি নিয়েই টানাটানি হতে পারে। ফলে আস্বস্ত হচ্ছেন বিরোধীরা, আস্বস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।












Discussion about this post