সম্প্রতি খিদিরপুরের অরফানগঞ্জে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে এক রাতে পুড়ে ছাই হয়ে যায় প্রায় ১৩০০ দোকান। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করলেন এক ব্যবসায়ী। রীতিমতো সবক শেখালেন ওই ব্যবসায়ী। তাতে খানিকটা অস্বস্তিতে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। খানিকটা মেজাজ হারাতে হারাতেও সামলে নেন। এদিকে বিরোধীরা শুরু করেছে কটাক্ষ। কয়েক মাস পরই ভোট। আর সেই ভোট বাক্সে লাভ ক্ষতির অংক বিচার করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পা ফেলছেন, দাবি বিরোধীদের।
এদিন খিদিরপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের এক লক্ষ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি সেখান থেকে অস্থায়ীভাবে সরে যাওয়ার কথা বলেন। আর সেটা বলতেই এক ব্যাবসায়ী প্রশ্ন করেন, যতদিন দোকান গড়তে সময় লাগবে, তারা চলবেন কি করে? আর এতেই জবাব পাল্টা জবাব শুরু হতে থাকে মুখ্যমন্ত্রী এবং ওই ব্যবসায়ীর মধ্যে।
মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণ ঘোষণার পরও আশ্বস্ত হলেন না ব্যবসায়ীদের একাংশ। কেউ বললেন, টাকা দিচ্ছেন নাকি ভিক্ষা দিচ্ছেন? আবার কেউ অস্থায়ী দোকান নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। নতুন করে মার্কেট তৈরির জন্য আপাতত অন্যত্র বাজার সরানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ব্যবসায়ীরা জায়গা ছাড়তে নারাজ। পাশাপাশি দোকান করে দেওয়ার কথা যে বললেন মুখ্যমন্ত্রী, সেটাও যে কবে হবে, তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে এই ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
প্রসঙ্গত, রবিবার রাত ২টো নাগাদ খিদিরপুরের অরফাগঞ্জ মার্কেটে হঠাৎই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনা ঘটার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তারা দমকলে খবর দেয়। প্রায় এক ঘন্টা দেরিতে দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তাতেই খুবই ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। যখন দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, ততক্ষণই কালো ধোয়ায় ঢেকে গিয়েছে গোটা এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তাতে ব্যর্থ হন। কারণ জানা গিয়েছে, সেখানে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, খিদিরপুরের উড়ালপুল থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে দমকল বাহিনী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। আর তাকে দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে মনে করা হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করলে খানিকটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে ব্যবসায়ীদের মনে।












Discussion about this post