বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাস্টারস্ট্রোক রাজ্যের শাসক শিবিরের। তৃণমূল সরকারের দুয়ারে কর্মসূচি আগেই চালু হয়েছিল রাজ্যে। সারাও ফেলেছে প্রবলভাবে। এবার তারই আদলে সমস্ত এলাকায় পাড়ায় পাড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দিতে নতুন প্রকল্প ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পের নাম আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান। জানা যাচ্ছে, এর মধ্যে দিয়ে এলাকার সমস্ত জন সমস্যা সমাধান করা হবে।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, লড়াই জোরদার করতে হবে। প্রত্যেকটি নেতা, কর্মীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, এলাকায় ফিরে কাজ করুন। মানুষের সমস্যা সমাধান করুন। এইবার সমস্যা সমাধানে নতুন প্রকল্প চালু করল তৃণমূল সরকার। জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পে পানীয় জল, রাস্তা মেরামতির মতো ছোট ছোট স্থানীয় সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য প্রতি তিনটি বুথ নিয়ে একটি করে শিবির আয়োজন করবে স্থানীয় প্রশাসন৷ সেখানেই নিজেদের অভিযোগের কথা জানাতে পারবেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা৷ এমনকি দীর্ঘদিনের বাকি থাকা কাজও করবে প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, ২ রা অগাষ্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। আগামী ২ মাস ব্যাপী এই কর্মসূচি চলবে। দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে ১৫ দিন এই কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। পরে ফের চালু হতে পারে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানা , এটা নিচু স্তরের মানুষের কথা শোনার উদ্যোগ৷ তবে এর পাশাপাশি দুয়ারে সরকার প্রকল্পও চলবে৷ এর মধ্যে দিয়ে সরকার ৮০ হাজার বুথে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করবে। সারা দেশে এই প্রথম হচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, এক একটি বুথের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করব। সবমিলিয়ে এই প্রকল্পে সরকারের তরফে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ, তারা যেভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, সেভাবেই করে যাক। আগামী ২ তারিখ থেকে এই প্রকল্প চলবে। এমনকি এই প্রকল্পে নজরদারি চালানোর জন্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স তৈরি করা হবে৷ যে টাস্কফোর্স জেলায় জেলায় নজরদারি চালাবে৷ অনলাইনে স্বচ্ছতা বজায় রেখেই সব কাজ হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
অর্থাৎ নিচু স্তরের সাধারন মানুষের কথা শোনার জন্য ফের উদ্দ্যেগ মমতা সরকারের। দুয়ারে কর্মসূচি সারা ফেলেছিল গোটা রাজ্য জুড়ে। এমনকি তার প্রভাব ভোট বাক্সেও দেখা দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও নতুন প্রকল্পের দিকে এগোচ্ছে সরকার। যা সাধারণ মানুষের জন্য সমস্ত সমস্যার সমাধান সহজ করে তুলবে। ফলে বলায় যায়, নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। কোমর বেধে নেমে পড়েছে শাসক শিবির। যতদিন এভাবে, কর্মসূচি আরো জোরদার হবে।












Discussion about this post