গুজরাট মন্ত্রিসভায় নাটকীয় মোড়। বৃহস্পতিবার একযোগে সমস্ত মন্ত্রীরা ইস্তফা দিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পোটেল ছাড়া বাকি সমস্ত মন্ত্রীর এক ধাক্কায় পদ চলে যায়। যেটা অতীতের কামরাজ প্ল্যানের মতোই। এরপর গঠিত হয় নতুন মন্ত্রীসভা। পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার দুপুরে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। জানা যায়, মন্ত্রিসভায় ২৬ জন নতুন মন্ত্রী স্থান পেয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ক্রিকেটার রবীন্দ্র যাদেজা স্ত্রী রিভাবা জাদেজা। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা যায়, পুরনোদের কেউই ঠাঁই পাননি নতুন মন্ত্রিসভাতে। গুজরাটের এমন ঘটনা বহু রাজ্যকেই উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে। দেশের এই মূহুর্তে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। কারণ গোটা দেশে বেশিরভাগ বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের তেমন কোনও জনপ্রিয়তা নেই। তারা দিল্লির আলোয় আলোকিত। গুজরাটের এই ঘটনা বুঝিয়ে দিল, দিল্লি যেমন মসনদ দেয়, তেমনই মসনদ কেড়েও নেয়। তবে শুধুমাত্র বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নয়। উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছে বাংলাতেও। কারণ শোনা যাচ্ছে, গুজরাটের ঘটনাটি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে শাসকদলের অন্দরে। কিন্তু কেন আতঙ্কিত শাসকদল?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ রাজ্যের মন্ত্রীসভাতে অনেক মন্ত্রী রয়েছেন, যাদের কাজ একেবারেই ভালো নয়। যারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের প্রথম দিকের শরীক। তাদের এখনও স্বমহিমায় রেখে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারা মুখ্যমন্ত্রীর আলোতে আলোকিত। তাদের কাজের পরিধি দেখলে দেখা যাবে, তাদের দফতরের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। নবান্নের পরামর্শে সচিবরাই দফতর চালাচ্ছেন।
লোকসভা ভোটের পরেই রাজ্য মন্ত্রীসভার রদবদলের আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর আরজিকরের ঘটনা ঘটে। তাতে মন্ত্রীসভার রদবদল হয়নি। এমনকি দলের সাংগঠনিক রদবদল এক্ষেত্রে ধাক্কা খায়। এদিকে বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। সেক্ষেত্রে আর নতুন করে মন্ত্রীসভার রদবদল হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গুজরাটের মতো পরিস্থিতি এই মুহূর্তে না হলেও পরবর্তীকালে হতে পারে। তার কারণ ২০০৭ সালে গুজরাটে বিধানসভা ভোটের সময় সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে প্রায় সব বিধায়কের টিকিট কেটে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। পরিবর্তে সেই সমস্ত আসনে নতুন মুখ দেওয়া হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা গিয়েছিল, প্রত্যেকটি নতুন প্রার্থীই ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এর কারণ হিসেবে উঠে আসে, নতুনদের বিরুদ্ধে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না। যেটা সেই মুহূর্তে তৈরি হয়ে গিয়েছিল পুরনোদের মধ্যে। তাই ফের তাদের প্রার্থী করলে ওই আসনগুলিতে জিততে পারত না বিজেপি। গুজরাটের পুরনো সেই অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তীকালে বহু রাজ্যে কয়েক বছর ধরে সিটিং বিধায়কদের টিকিট দেয়নি বিজেপি। এই নিয়ম পরবর্তীকালে কাজে লাগায় বহু অন্যান্য রাজনৈতিক দল। পশ্চিমবঙ্গেও সেই ফর্মুলা মানা হতে পারে বলে জানাচ্ছে বিশেজ্ঞরা। যে সমস্ত বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং যাদের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ নেই, তাদের সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। কারণ ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ ভুরি ভুরি। কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরোধিতার মোকাবিলা করতে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছেও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার, শেষমেশ বাংলার পরিস্থিতি কোনদিকে গড়ায়!












Discussion about this post