এখন বঙ্গ রাজনীতিতে একটাই নাম চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে, তা হল দিলীপ ঘোষ। যিনি বিগত দিনে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে বিভিন্ন সময় দুষেছেন, এবং ছাড় পাননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এমনকি তার বক্তব্য মন্তব্যের জেরে জল ঘোলাও হয়েছে বিস্তর। কিন্তু সেই দিলীপ ঘোষকে দেখা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে হেসে কথা বলতে। যেটা মেনে নিতে পারছে না বঙ্গ বিজেপির কোনও নেতৃত্বই। এমনকি বিজেপি তৃণমূল নির্বিশেষে প্রত্যেকেরই একটাই পোস্ট, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির তৃণমূলে যোগ নিয়ে। তবে কি তিনি সত্যিই তৃণমূলে ভিরবেন?
অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দিঘাতে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন হল মহাসমারোহে। উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই দিনই দিঘাতে উপস্থিত হলেন সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষ। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে। আর তারপর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা একেবারে তুঙ্গে। তবে থেমে নেই দিলীপ ঘোষও। প্রত্যেকটি মন্তব্যের করা জবাবে ব্যাট ধরেছেন তিনি নিজেই। তবে তাকে ঘিরে প্রবল বিক্ষোভও দেখা গিয়েছে।
এদিকে বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি নেমে পড়েছে মাঠে ময়দানে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্যে এই মুহূর্তে একটি অদ্ভুত হওয়া বইছে। যেখানে ২৬ হাজার চাকরি চলে গেল। যেখানে ওয়াকফ বিল নিয়ে মুর্শিদাবাদের এত বড় ঘটনা, সেই আবহে দিলীপ ঘোষ চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাও নিজের ব্যক্তিগত কারণ নিয়ে। মূল বিষয় থেকে ফোকাস ঘোরাতেই তাকে আসরে নামানো হয়েছে বলে অনুমান করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে আসলে নামালো কে? বিজেপি নাকি তৃণমূল? এমন প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠছে। আর বিষয় নিয়ে কি বলছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, শুনুন
তবে অনেক বিজেপি নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়ে বলছেন, দিলীপ ঘোষ বড্ড তৃণমূল প্রেমি। এর আগেও দেখা গিয়েছিল, কুনাল ঘোষের সঙ্গে একই টেবিলে কেক কাটছেন তিনি। যে ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আলোচনাও চলেছিল।
এছাড়াও অতীতে দেখা গিয়েছিল, যখন দিলীপ ঘোষকে রাজ্য সভাপতির পথ থেকে সরানো হয়, তখন বন্ধু বিজেপির কোনও নেতৃত্বই থেকেই সেই ভাবে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফিরহাদ হাকিম থেকে কুনাল ঘোষ। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের দিঘা যাওয়া নিয়ে কি বলছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার শুনুন
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে টক্কর টক্কর লড়াই হবে। কিন্তু তার আগেই দিলিপ ঘোষকে নিয়ে চায় পড়ল দল। বলছেন অনেকে। নিচুস্তরের দলীয় কর্মীদের কাছে কি বার্তা যাবে? কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি অভিযোগ করে এসেছে, এই রাজ্যে তাদের বহু দলীয় কর্মী সমর্থকেরা মার খাচ্ছে তৃণমূলের হাতে। শুধু তাই নয় ভোট পরবর্তী বা প্রাক ভোটে খুন পর্যন্ত হয়েছে। এখন দেখার, সত্যিই দিলীপ ঘোষ ঘর বদলান নাকি নিজের ঘরেই থাকেন!











Discussion about this post