পাখির চোখ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। প্রত্যেকটা দল যেমন নিজেদের মতো করে গুটি সাজাতে শুরু করে দিয়েছে। ঠিক একইভাবে প্রশ্ন উঠছে, প্রত্যেক নির্বাচনের আগে যেভাবে শিবির বদল বা দল বদল দেখা যায়, এবারও কি সেটা অব্যাহত থাকবে? এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এটা অবধারিত। তবে এইবার দলবদলের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে দাবাং দিলীপ ঘোষের। অন্তত প্রশ্ন, গুঞ্জন উঠছে, বিজেপিতে কোণঠাসা হয়ে কি দল বদল করবেন দিলীপ ঘোষ? ২১শে তৃণমূলের মঞ্চে কি তাকে দেখা যাবে? বিজেপিতে কোণঠাসা হয়ে কি পদ্মফুল ছেড়ে জোড়া ফুলে দিলীপ ঘোষ?
এই প্রশ্নগুলো ওঠার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ঘিরে। সম্প্রতি দেখা গেল, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। তারপরই সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষ দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনে চলে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসে গল্প করতেও দেখা যায় বিজেপি নেতাকে। সেটা নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। যদিও দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দেন, আমন্ত্রণ রক্ষা, সৌজন্যতা এবং ভগবান দর্শনে তিনি হাজির হয়েছিলেন। সেই জল্পনা থিত হতে না হতেই রাজ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী। আলিপুরদুয়ার জনসভা করেন নরেন্দ্র মোদী। দেখা যায় বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদারকে। কিন্তু নেই দিলীপ ঘোষ। তিনি সেদিন টিভির সামনে বসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। অর্থাৎ বোঝাই যায়, বিজেপি নেতার ইচ্ছে ছিল, প্রধানমন্ত্রী জনসভাতে যাওয়ার। কিন্তু সেখানে তিনি আমন্ত্রণ পাননি। যদিও দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, আমি সাধারণ কর্মী, নেতারা উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আমন্ত্রণ না পেয়ে এই কথা জানিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। অন্যদিকে রাজ্যে এলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দেখা যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যদিকে সুকান্ত মজুমদার। অমিত শাহ বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রিয় বন্ধু বলে সম্মোধন করে জানান, বিধানসভায় তিনি দাঁড়ালে মুখ্যমন্ত্রীও ভয় পেয়ে যান। এদিন ঠিক কি বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, শুনুন
কিন্তু সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একেবারে কি ব্রাত্য দিলীপ ঘোষ? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনসভাতেও দেখা গেল না তাকে। তবে কি বঙ্গ বিজেপি তাকে দলের বাইরেই রেখেছে? কারণ দিলীপ ঘোষের বাড়ি থেকে ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দূরত্ব খুব বেশি নয়। অথচ সেখানে তিনি ডাক পেলেন না? যদিও দিলীপ ঘোষ একাধিকবার বলেছেন, তিনি দলের কোনও বিধায়ক নন, সাংসদ নন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি তো রাজ্য কমিটির সদস্য। এদিকে সূত্র মারফত খবর, দিলীপ ঘোষের অনুরাগীরা তার বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। এবং তাকে বলা হয়েছিল, অন্তত আপনি অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করুন। কিন্তু খবর দিলীপ ঘোষ বলেছেন, যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফোন করেন বা তার দফতর বা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক যদি ফোন করে তবেই তিনি যাবেন। তবে কি সত্যিই তিনি বঙ্গ বিজেপিতে ব্রাত্য? যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সখ্যতা বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে তাতে এই গুঞ্জন উঠছে, তিনি কি তৃণমূলে ভিড়বেন? মাত্র দেড় মাস বাকি তৃণমূলের ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশ। সেখানেই কি দেখা যাবে অভিমানী দিলীপ ঘোষকে? অবশ্য তার উত্তর দেবে একমাত্র সময়।












Discussion about this post