বিরোধী থেকে শাসক আসনে এসেই অবস্থান বদলে যাচ্ছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিরোধী নেত্রী থাকার সময় তিনি বারবার দাবি করতেন, ভোটার তালিকায় কারচুপি হচ্ছে। ভুয়ো ভোটার রয়েছে। একটা এপিক নম্বরে ৫০০টা ভোটার, বাংলায় এটা কেন হবে?
অথচ কয়েক বছরেই তাঁর অবস্থান বদলে গেল। বাম আমলে এই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই সরব হয়ে ২০০৫ সালে লোকসভার স্পিকারের আসনে কাগজ ছুঁড়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। আর আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তিনি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর বিরোধিতা করছেন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুঝেছেন, বিহারের মতো এই রাজ্যেও যদি জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর চালায়, তাহলে কোটির ওপর ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে। এর মধ্যে যেমন মৃত ভোটার রয়েছে, তেমনই রয়েছে অনেক ভুয়ো ভোটার বা এই রাজ্য থেকে অন্যত্র চলে যাওয়া মানুষের নাম। আর এটাই শাসকদলকে জেতাতে সাহায্য করে এসেছে বিগত দশ-পনেরো বছর। কিন্তু আজকের আলোচনা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা ভুয়ো ভোটার নিয়ে নয়। ছাব্বিশের বিধানসভার আগে এক অন্য গল্প নিয়ে আজকের প্রতিবেদন। সেটা হল আই-প্যাকের কারসাজি। যে সংস্থা তৃণমূলকে এই রাজ্যে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে নেপথ্যে কাজ করে চলেছে। অভিযোগ উঠছে, সেই আই-প্যাক এবার ভোটের আগে আভ্যন্তরীণ সমীক্ষার নামে এক বেআইনি কাজ করে চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক অডিও রেকর্ড সামনে আসছে। তাতে শোনা যাচ্ছে, মহিলা কণ্ঠে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে ফোন যাচ্ছে। আর সমীক্ষার নামে জানার চেষ্টা চলছে তিনি কোন দল বা প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন গত লোকসভা নির্বাচনে। নিউজ বর্তমানের কাছেও এমনই এক ভাইরাল অডিও এসেছে। যদিও নিউজ বর্তমান সেই অডিও রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। জানা যাচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী পরিচয় দিয়ে একের পর এক ফোন যাচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে। কিন্তু গ্রাম বাংলার মানুষও এখন ধরে ফেলছেন আই-প্যাকের কারসাজি।
পুরুলিয়ার জনৈক এক ব্যক্তির কাছে প্রথম ফোন যায়। তিনি কোথায় থাকেন, তাঁর বয়স কত, তাঁর বিধানসভা এলাকা কি, এই সব প্রশ্নের ফাঁকেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি গত লোকসভায় কাকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা বলতে চাননি। অভিযোগ, অন্য নম্বর থেকে দশ-পনেরো মিনিট পর আরেকটি নারী কণ্ঠে তাঁর কাছে ফোন যায়। একই বিষয় ও একই প্রশ্ন।
সমীক্ষা তো হবেই। তৃণমূল বা আই-প্যাকের মতো বিজেপিও হয়তো নিজের মতো করে সমীক্ষা করবে প্রতিটি এলাকায়। কিন্তু আই-প্যাকের এহেন প্রচেষ্টা কেন? ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী সদ্যই ঘোষণা করেছেন, ‘আমাদের পাড়া-আমাদের সমাধান’ প্রকল্প। বিধানসভা নির্বাচনের কয়েকমাস আগে এই প্রকল্পে বুথে বুথে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করতে নয়া উদ্যোগ। এমনকি বুথ প্রতি ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। তাই কোন এলাকায় তৃণমূলের ভোট বেশি, কোথায় কম সেটাই জানার চেষ্টা করছে আই-প্যাক। কিন্তু মজার বিষয় হল, গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষও আজ ধরে ফেলছেন আই-প্যাকের এই কারসাজি। যা যথেষ্টই ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Discussion about this post