দীঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। ৩০শে এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয় দিন দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বার উৎঘাটন করে, দিঘারে জগন্নাথ মন্দির কে জগন্নাথ ধাম বলেও আখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই আপত্তি ওড়িশার বিজেপি সরকারের। দেশের চারটি ধাম এর মধ্যে অন্যতম একটি ধাম পুরীর জগন্নাথ ধাম। আর এটিই একমাত্র জগন্নাথ ধাম বলে মনে করেন ওড়িশা সরকার। এমনকি বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েতদের মধ্যে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কোন কাঠ দিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের বিগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা জানতে সক্রিয় ভূমিকায় ওড়িশা সরকার।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি, ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ কুমার পাধীকে চিঠি লিখে এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত বুধবার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের অন্যতম প্রধান সেবায়েত রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্র, দিঘার জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে বললেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দিঘায় যে জগন্নাথ মন্দিরটি তৈরি করেছেন, তা চমৎকার… আর পুরীর জগন্নাথ মন্দির চারটি ধামের মধ্যে পবিত্রতম ধাম… বিশ্বজুড়ে মন্দির তৈরি করা হয় ভগবান জগন্নাথের উপাসনার জন্য… এই নিয়ে তাই বিতর্ক তৈরি করা উচিৎ নয়।’ কি বলেছেন রামকৃষ্ণদাস মহাপাত্র শুনুন,,
দিঘা জগন্নাথ মন্দির বিতর্কের বিষয়ে পদ্মশ্রী পুরষ্কারপ্রাপ্ত শিল্পী সুদর্শন পট্টনায়ক জানিয়েছেন, “দিঘায় ভগবান জগন্নাথের মন্দির নির্মিত হওয়া খুবই ভালো ব্যাপার। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন যে দিঘা একটি জগন্নাথ ধাম, যা সম্পূর্ণ ভুল। এটি হিন্দুদের অনুভূতিতে আঘাত করে। দেশে ৪টি ধাম রয়েছে এবং পুরী জগন্নাথ ধাম তাদের মধ্যে একটি। দিঘায় জগন্নাথ ধাম কীভাবে তৈরি করা সম্ভব?”
এবার পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী সুদর্শন পট্টনায়েক কি বলছেন শোনাবো,,,
উল্লেখ্য,ওড়িশার মন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দনের মতে, মন্দির প্রশাসন পুরো ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত করবে ৷ তদন্তের পর এর সত্যতা প্রকাশেরও ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্যের আইনমন্ত্রীর দাবি,যদি কেউ এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয় বা জেনেশুনে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তাহলে মন্দিরের প্রধান প্রশাসককে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিয়ে তাঁকে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। আর এরপরই ওড়িশার মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে রবিবার পুরীর মন্দিরের প্রধান সেবায়েত রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্রকে শো কজের নোটিস ধরানো হয়। সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে তাঁকে। উত্তর সন্তোষজনক না-হলে জগন্নাথ মন্দির আইন, ১৯৫৫ অনুসারে ওই সেবায়েতের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে ওই নোটিসে ।











Discussion about this post