মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। এইবার তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের পুলিসের। যা ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এর পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। রাজ্য পুলিশ কি দলদাস হয়েই থাকবে? আসলে বিষয়টি ঠিক কি?
সম্প্রতি কৌস্তভ বাগচী তার ফেসবুক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে লেখা দীপক ঘোষের বই The Goddesses That Failed এর সপ্তম চ্যাপ্টার থেকে একটি চিঠির ছবি তুলে ধরেন। সেটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, প্রত্যেকটা ক্রিয়ার সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আসলে ওই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য দীপক ঘোষের করা কয়েকটি প্রশ্নের উত্থাপন রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ৩০শে এপ্রিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈবাহিক জীবন সম্পর্কে জানতে চেয়ে দীপক ঘোষের কয়েকটি প্রশ্ন প্রদান করা রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে উল্লেখ রয়েছে, রঞ্জিত ঘোষ অর্থাৎ সেই সময় আলিপুর পুলিস কোর্টের আইনজীবী এবং তৃণমূল বিধায়ক। তার সঙ্গে আদেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন কিনা! এছাড়াও, ওই চিঠির শেষ অংশে লেখক মমতার উদ্দেশ্যে দিল্লির AIIMS এ কিছু মেডিক্যাল টেস্ট করানোর দাবী জানান। দীপক ঘোষ শেষ অনুচ্ছেদে লেখেন, এই চিঠি প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যেন তিনি দেন। যাতে কোনদিন যদি এই চিঠি প্রকাশিত হয় তবে যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য দাবি রাখতে না পারেন। আর সেই চিঠির ছবি বিজেপি নেতা কৌস্তব বাগচী পোস্ট করাতে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগ করে টালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন এক মহিলা। এই বিষয়ে পুলিস বিজেপি নেতা কৌস্তব বাগচীর বিরুদ্ধে এফ আই আর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে কৌস্তভ বাগচী যখন কংগ্রেসে ছিলেন, তখন তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মৃত মেয়ের প্রসঙ্গে আপত্তিজনক কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনও কৌস্তভ বাগচী প্রতিবাদ করেছিলেন। তখনও তিনি দীপক ঘোষের বই প্রসঙ্গে কথা বলেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাঝ রাতে কৌস্তভ বাগচীর বাড়িতে পৌঁছয় পুলিস এবং তাকে থানায় তুলে নিয়ে আসে। পরে অবশ্য কলকাতা হাইকোর্টে তোলা হলে কৌস্তভের জামিন হয়ে যায়। সেই সময়ও কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে অন্য কেউ পুলিসের দ্বারস্থ হয়। ঠিক যেমনটা এবারও হল। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কারও মানহানি হলে অন্যকে দিয়ে এফআইআর কেন? এখানে আরও একটি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটা ঘটনায়। সম্প্রতি তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল যেভাবে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করেছেন, এমনকি পর পাইনি আইসির মা ও স্ত্রী। সেই অডিও ভাইরাল হতেই হইচই ফেলে দিয়েছে রাজ্যে। অনুব্রত মণ্ডল ক্ষমা চেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু ক্ষমা চাইলে কি সাত খুন মাফ? যদিও পুলিস তাকে ডেকে পাঠাল তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সেটা এড়িয়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একদল বলছেন, এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, আবার অনেকে বলছেন, পুলিস যেভাবে সম্প্রতি দলদাসে পরিণত হয়েছে, তাতে এটাই তাদের প্রাপ্য ছিল। এক্ষেত্রে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে পুলিশের যে আচরণ করা উচিত ছিল, সেখানে পুলিশ এক্টিভ না, বলছেন অনেকে। অথচ অন্য কোনও ক্ষেত্রে পুলিশের সক্রিয়তা তুঙ্গে। এছাড়াও রাজ্যে বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে, পুলিস কখনও টেবিলের তলায় লুকোচ্ছে, আবার কখনও দেখা গিয়েছে, দোকানে লুকচ্ছে ভয়ে। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে।












Discussion about this post