পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদকে নিকেশ করতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন সিঁদুর যেমন গোটা দেশ, বহি বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে, তেমনই এটা নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা থেকে অপারেশন বেঙ্গল উঠতেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া প্রতিক্রিয়া। নিজের স্ত্রীকে কেন সিঁদুর দিচ্ছেন না? মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশ্নের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। পাশাপাশি এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর তীব্র ফেসবুক পোস্টে তুমুল শোরগোল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার জনসভা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধান মন্ত্রী। তার বক্তব্যে যেমন উঠে এসেছিল দুর্নীতি প্রসঙ্গ, তেমন চাকরি হারার শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তার জনসভা থেকে অপারেশন বেঙ্গল এর ডাক ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভার পর সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই মোদি সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের স্ত্রীকে কেন সিঁদুর দিচ্ছেন না? মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়ায় তেঁতে উঠেছে বঙ্গ বিজেপি। করা জবাব দিয়েছেন বিরোধীদলনে তার শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, উনি এইভাবে আক্রমণ করলে, দীপক ঘোষের বইটা ছাপিয়ে বিতরণ করা হবে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকে সাবধান করেন বিরোধী দলনেতা। তবে সব থেকে বেশি হইচই ফেলেছে বিজেপি নেতা কৌস্তব বাগচীর ফেসবুক পোস্ট। কৌস্তভ বাগচী তার ফেসবুক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে লেখা দীপক ঘোষের বই The Goddesses That Failed এর সপ্তম চ্যাপ্টার থেকে একটি চিঠির ছবি তুলে ধরেছেন। সেটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, প্রত্যেকটা ক্রিয়ার সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আসলে ওই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য দীপক ঘোষের করা কয়েকটি প্রশ্নের উত্থাপন রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ৩০শে এপ্রিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈবাহিক জীবন সম্পর্কে জানতে চেয়ে দীপক ঘোষের কয়েকটি প্রশ্ন প্রদান করা রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে উল্লেখ রয়েছে, রঞ্জিত ঘোষ অর্থাৎ সেই সময় আলিপুর পুলিস কোর্টের আইনজীবী এবং তৃণমূল বিধায়ক। তার সঙ্গে আদেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন কিনা! সেই প্রশ্নই উল্লেখ করেন দীপক ঘোষ। এছাড়াও ২০১১ সালে ২০ শে মে, যেদিন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, তখন রাজভবনে কি উপস্থিত ছিলেন এই রঞ্জিত ঘোষ? সেই বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
শুধু তাই নয়, ওই চিঠিতে উল্লেখ করা আছে, দীপক ঘোষের বেশ কিছু প্রশ্ন। যেখানে দীপক ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চেয়েছেন, তিনি আদেও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সন্তান সম্ভবা হয়েছিলেন কিনা? শুধু তাই l
নয়, তিনি বন্ধু এবং চিকিৎসকদের সাহায্যে কোনও ক্লিনিকে গিয়ে গর্ভপাত করিয়েছিলেন কিনা? এখানেই শেষ নয়, ওই চিঠির শেষ অংশে লেখক মমতার উদ্দেশ্যে দিল্লির AIIMS এ ভার্জিনিটি টেস্ট করানোর দাবী জানান। দীপক ঘোষ শেষ অনুচ্ছেদে লেখেন, এই চিঠি প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যেন তিনি দেন। যাতে কোনদিন যদি এই চিঠি প্রকাশিত হয় তবে যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য দাবি রাখতে না পারেন। আর সেই চিঠির ছবি বিজেপি নেতা কৌস্তব বাগচী পোস্ট করাতে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহলে।












Discussion about this post