উর্দিধারি পুলিসের এখন কত রঙ্গ। একদিকে নিরস্ত্র চাকরিপ্রার্থী, চাকরিহারাদের লাঠি, লাথি মারছেন। আর অন্যদিকে প্রাণ ভয়ে লুকিয়ে পড়ছেন। এ কেমন পুলিস! সব থেকে বড় প্রশ্ন, কার নির্দেশে এসব করছেন তারা?
সদ্য চাকরি খুইয়েছেন 2016 সালের এসএসসির 25752 জন শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী এবং অশিক্ষক-কর্মচারী। চারিদিকে হাহাকার, চাকরি হারানোর যন্ত্রণা। এর মধ্যেই তারা রাস্তায় নেমেছিলেন প্রতিবাদ করতে। আর তাতেই দেখা গিয়েছে, চাকরি হারাদের প্রতিবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাদের লাঠিপেটা করা হচ্ছে। সব থেকে উদ্বেগজনক দৃশ্য হল, পুলিশের সরকারি আধিকারিক আন্দোলনরত শিক্ষকদের লাথি মারছেন। এই ঘটনা সামনে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠে। পুলিসের অত্যাচার নিরীহ, নিরস্ত্র কিছু মানুষদের ওপর। যারা মানুষ গড়ার কারিগর, তারাই আজ মার খাচ্ছে পুলিশের হাতে বলা ভালো পুলিশের পায়ে। এর বিচার কে করবে জানা নেই। তবে একই সময়ে পুলিশের বিপরীত একটি ছবি সামনে এসেছে।
2025 এর নয়া ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে বাংলার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে বিক্ষোভ চলছে। যে বিক্ষোভ হিংসার রূপ নিয়েছে। এমনকি বিক্ষোভকারীরা ট্রেন চালাতে দিচ্ছে না। পুলিশকে লক্ষ্য চলছে ইট বৃষ্টি। এমনকি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের তরফে। আর এই পরিস্থিতিতে নির্বিকার পুলিশ। অন্তত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ তাই বলছে। তখন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ, মুর্শিদাবাদে জঙ্গিপুরের কেন্দ্রীয়বাহিনী মোতায়েন করার।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা মামলায় এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বিশেষ বেঞ্চ৷ শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট৷
এটাতো রাজ্য পুলিশের কাছে একটা চরম ব্যর্থতা। শুধু তাই নয়, জঙ্গিপুরের অশান্তি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে , প্রাণ বাঁচাতে জঙ্গিপুরের দোকানে আশ্রয় পুলিশের। কার্যত প্রাণ ভিক্ষা চাইছে তারা। এমনকি মুর্শিদাবাদের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। এমনকি তিনি জানান, শক্ত হাতে পুলিস এই ঘটনার মোকাবিলা করছে। কিন্তু পুলিসের কার্যক্রম অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, যেখানে লাঠিচার্জ করা উচিত, পরিস্থিতি শান্ত করতে, দাঙ্গাবাজদের প্রতিহত করতে সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার পুলিশের, সেখানে পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিস নির্বিকার। আর এদিকে নিরীহ, নিরস্ত্র শিক্ষকদের ওপর লাঠি, লাথি।












Discussion about this post