বীরভূম নাকি কেষ্টভূম? আসলে, একটা সময় ছিল, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নামে গোটা বীরভূম জেলায় ‘বাঘে-গরুতে নাকি এক ঘাটে জল খেত’! সেই দিন কি তবে বদলে গেল? তিহার জল মুক্তির পর নিজের ভূমি বীরভূমে ফিরে বৃহস্পতিবার প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করেন কেষ্ট। এই সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর আচরণ, কথাবার্তা এবং সেইসঙ্গে সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনার প্রবাহ রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে। প্রাথমিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে বীরভূমে কেষ্টর প্রতিপত্তি এবং দলনেত্রীর সঙ্গে তাঁর স্নেহ-শ্রদ্ধার সম্পর্ক নিয়ে। এই দু’বছরে কি অনেকটা বদলে গিয়েছেন অনুব্রত? অন্তত প্রাথমিক দর্শনে তেমনটাই মনে হতে পারে। কোনও বিতর্কিত মন্তব্য নয়, কোনও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বার্তা নয়। এমনকি, বন্যা পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত বাংলার মঙ্গল কামনায় মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করলেন তিনি!বৃহস্পতিবার বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে বসে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে সাধারণ বাড়ির মেয়ে। কোনও নেতা নেত্রী নয়। তাও জেল খাটতে হল। ঈশ্বরের কাছে এমন কিছু পাপ বা অন্যায় করেছি যে তার শাস্তি পেয়েছি।’ মামলা প্রসঙ্গে বললেন, “আইন আইনের পথে চলবে। আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে। আইনকে আমি সম্মান করি।” অনু্ব্রতর কথায়, “সব ধরনের মানুষকে সহযোগিতা করুন। বন্যার ক্ষেত্রে, উৎসবের ক্ষেত্রেও। যে যেখানকার বিধায়ক-নেতা, সভাধিপতি, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষের পাশে থাকতে হবে। দুর্গাপুজো, কালীপুজোর পর ব্লকে ব্লকে মিটিং করব। কেউ যেন অশান্তি না করে। সবাইকেই ভালো থাকতে হবে। সবাইকেই নিয়ে চলতে হবে। কেউ খুঁচিয়ে দিয়ে একটা বাইট দিয়ে কোনও লাভ নেই।” প্রসঙ্গত, ঘরে ফেরার পর থেকেই শোনা যাচ্ছে, অনুব্রত মণ্ডলের স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নেই। জেলে থাকাকালীন ওজন অনেকটাই কমেছে তাঁর। সেই কারণেই কোনও সমস্যা হয়েছে, নাকি অন্য কিছু, সেটা অবশ্য স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, শীঘ্রই কলকাতা আসবেন তিনি। মূলত চিকিৎসা করাতেই আসবেন। অন্যদিকে, বুধবার রাতে নানুরের বাসাপাড়ায় কর্মী-বৈঠকে কাজল শেখকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমি দাবা খেলতে জানি। হাডুডু-ও জানি। খেলা হবে, গান শুনিয়ে লাভ নেই।’’ এরপরেই তিনি বলেন, ‘‘পাঙ্গা নিতে এসো না। হাতে চুড়ি পরে বসে নাই। যে দিন গোটাব, সে দিন একদম গুটিয়ে দেব।’’ কাজল তাঁর বক্তৃতায় কারও নাম করেননি। তবে বীরভূমের রাজনীতি নিয়ে ওয়াকিবহালদের অনেকে বলছেন, কাজল হুঁশিয়ারি দিতে চেয়েছেন নানুরেরই ‘অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ’ তৃণমূল নেতা করিম খানকে। এদিনের কর্মী-বৈঠকে কাজল এ-ও বলেছেন, ‘‘গ্রুপবাজি করতে এসো না। গ্রুপবাজি করতে এলে ভাল হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশে আমি কাজ করব।’’ মুখে কাজল বলছেন, অনুব্রত তাঁর ‘অভিভাবক’। তবে বাস্তবের ঘটনাক্রম ‘অন্য’ কথা বলছে বলেই অভিমত দলের অনেকের।
বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে নিয়ে ভারতের সেনাপ্রধান মুখ খুলতেই কি নড়েচড়ে বসল, ইউনূসের জামাতী সরকার। ভারতের সেনাপ্রধানের আশ্বাস এবং বিশ্বাস ছিল দুই...
Read more












Discussion about this post