বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে সম্পর্কে এক ধরনের উত্তেজনা চলছে। একদিকে যেমন দুই দেশের সামাজিক মাধ্যমে পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগার চলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উত্তেজনাকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই ভারতে বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনে হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন জারি। ফের ইসকনের মন্দিরে আগুন মৌলবাদীদের। ভয়ে সিঁটিয়ে হিন্দুরা। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ মহম্মদ ইউনুসের সরকার। ডেডলাইন বেঁধে সরকারকে ধর্মীয় সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার হুমকি বাংলাদেশি মৌলবাদীদের। নৈরাজ্যের বাংলাদেশে দিকে দিকে আক্রান্ত হিন্দুরা। বাংলাদেশ জুড়ে চূড়ান্ত অশান্তি। হিন্দু মহল্লায় আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। ফি দিন হিন্দু পাড়ায় চলছে আক্রমণ, লুঠপাট। বাংলাদেশ থেকে ভারতকে লক্ষ্য করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া হচ্ছে। এর মধ্যেই আগামীকাল ভারত-বাংলাদেশ বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠক। এই বৈঠকের দিকে নজর গোটা বিশ্বের। বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি খুবই গুরুতর হয়ে উঠেছে। যেখানে আগে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সাল থেকে ভারতের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলত। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ভারত বিদ্বেষ নিয়ে আর কোনও রাখঢাক নেই বাংলাদেশের একাধিক নেতার। কেউ ভারতের শাড়ি পোড়াচ্ছেন। কেউ আবার ভারতকে রীতিমতো সাম্রাজ্যবাদী বলে কটাক্ষ করছেন। একদিকে যখন বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রতিবাদ মিছিল বের হচ্ছে ভারতে তখনই বাংলাদেশ থেকেও নানা হুঙ্কার দিচ্ছেন নেতারা। বাংলাদেশের খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ‘ভারতের সাম্রাজ্যবাদীদের’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার নওগাঁর সদর উপজেলা আমতলী মোড় জামে মসজিদ এলাকায় তাফসিরুল কোরআন ও শানে রিসালাম সম্মেলনে এই আহ্বান করেছেন। এদিকে সোমবার ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ঢাকা যাচ্ছেন। দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে ফরেন অফিস কনসাল্টেশনের বৈঠকে যোগ দিতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকা যাওয়ার কথা। তার আগে ভারত বিরোধিতার সুর আরও চড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। আগামীকাল দেশের প্রথমসারির দল বিএনপি ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস অভিযানের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এদিকে, শনিবার বিকালে ঢাকার রাস্তায় মিছিল করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার ও জওয়ানেরা। তাঁরা হুংকার দেন, কলকাতা, অসম, ত্রিপুরা সহ গোটা উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি ছিনিয়ে নেওয়া হবে। তাঁরা বলেন, দেশের জন্য ফের অস্ত্র ধরতে পারি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা কারণে ভারত বিরোধিতার বিষয়টি নতুন নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি আবার নতুন করে উস্কে দিচ্ছে কোনও কোনও রাজনৈতিক দলকে। তবে এই দফায় দুই দেশের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন তৈরি হয় ত্রিপুরার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার পর। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল ও সরকার এক হয়ে জাতীয় ঐক্যের ঘোষণাও দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বাদে দুটি বড় দলের নেতাদের মতে তারা চান রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের, জনগণের সাথে জনগণের মাঝে বন্ধুত্ব হোক। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন “ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তো বাংলাদেশ কোনো মন্তব্য করছে না, তাহলে ভারত কেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছে? যদি কোনো সংকট থেকে থাকে, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ তার সমাধান করবে।”
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post