বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে সম্পর্কে এক ধরনের উত্তেজনা চলছে। একদিকে যেমন দুই দেশের সামাজিক মাধ্যমে পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগার চলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উত্তেজনাকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই ভারতে বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনে হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন জারি। প্রায় তিন মাস অন্তরালে থাকার পর বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এখন মহম্মদ ইউনুস ও সে দেশের অন্তবর্তী সরকারের কাজকর্ম নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছেন। মাঝে মধ্যেই তিনি ভিডিও কনফারেন্সিং করে আওয়ামি লিগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং সেই প্রসঙ্গে ইউনুসের তুলোধনা করছেন। কিন্তু ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পর্কে শেখ হাসিনার সমালোচনা নয়াদিল্লি সমর্থন করে না। বুধবার বিদেশ মন্ত্রক সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিল। সেখানে বাংলাদেশে চলতি পরিস্থিতির প্রসঙ্গ ওঠে। তখনই এ কথা জানিয়েছেন বিক্রম। এদিকে ঢাকায় বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানায়নি বাংলাদেশ। ঢাকায় বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিক্রম মিশ্রি শেখ হাসিনার ভারতে থাকার প্রসঙ্গকে ‘দালাই লামার ভারতে থাকা’ র সঙ্গে তুলনা করেছেন। এক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান, এর আগেও যে কোনও বিপন্ন অতিথিকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। প্রত্যর্পণের দাবি না জানানো হলেও, ভারতের মাটি থেকে শেখ হাসিনার বিভিন্ন বিবৃতি সম্পর্কে আপত্তি তুলেছে ঢাকা। এ বিষয়ে বিক্রম মিশ্রির স্পষ্ট অবস্থান, হাসিনার ব্যক্তিগত মন্তব্যে ভারতের করণীয় কিছু নেই। বিদেশসচিব পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের চাপের কাছে পরোক্ষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে ঢাকা। ভারতের তরফে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকার ব্যাখ্যা, হামলা হলেও তা সাম্প্রদায়িক নয়। যে হামলা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক। আওয়ামী লিগের সদস্যদের উপর কোনও কোনও জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিদেশসচিব পর্যায়ের বৈঠকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের খবর অতিরিক্ত ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, বিক্রম মিশ্রি জবাবে জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমে কী দেখানো হচ্ছে, তার দায়িত্ব সরকারের নয়। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে সংখ্যালঘুদের উপর যে আক্রমণ হচ্ছে, তা ঠিক। বাংলাদেশের লাগাতার অশান্তির পরেও পূর্ববর্তী চুক্তি মোতাবেক ভারত বাংলাদেশ যা যা বাণিজ্য চলত, তা এখনও চলছে। ঢাকার তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য প্রয়োজনে সাংসদ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদল পাঠাতে পারে দিল্লি। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থানের কারণে গত ৫ অগস্ট বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সম্পর্ক সুবিদিত। হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর আগস্ট নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিক্রম মিশ্রী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক। তিনি আরো বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসার ঘটনা ভারত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ঢাকায় আলোচনার পর এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে, বিষয়টি নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমের একাংশের অতিরঞ্জিত প্রতিবেদন বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিদেশ সচিব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং এই পড়শি দেশটি দ্রুত একটি নতুন নির্বাচনের পথে এগোবে বলে সাউথ ব্লক আশা করছে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post