বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ওপর এদেশের নিরাপত্তার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে এমনটাই মনে করেন সে দেশের নাগরিক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সেনাবাহিনী এখন বিতর্কিত।
তবে আমরা জানি জাতির পরম আস্থা ও ভালবাসার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠার সঙ্গে দেশ গঠনেও রেখে গিয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন ভূমিকা। দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে নক্ষত্রের উজ্জ্বলতায় ভাস্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশপ্রেমের সুর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের অন্তরে ধ্বনিত হচ্ছে প্রজন্মের পর প্রজন্মে,সেই জন্মলগ্ন থেকে।
তবে সেনাবাহিনীতে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অনেক সেনাকে হত্যাও করা হয়েছে। অর্থাৎ নিজেরাও নিজেদেরকে হত্যা করেছে।
অতীতে বাংলাদেশে একটি আতঙ্ক দেখা গিয়েছিল রাজনীতিবিদদের মধ্যে। তারা ভাবতেন হয়তো যেকোনো সময় সেনাবাহিনী এসে দেশের ক্ষমতা নিয়ে নেবে। তাই তারা সর্বদা সেনাবাহিনীকে সব রকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করতেন।
কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের সময় এই সেনাবাহিনী বেশ প্রশংসিত হয়েছে, কারণ সকলেই মনে করছেন যে ৫ ই আগস্ট এর পর সেনাবাহিনী চাইলেই বাংলাদেশের ক্ষমতা হাতে তুলে নিতে পারতেন। পাশাপাশি সমালোচিতও হতে হয়েছে, কারণ দাবি উঠছে, সংসদ ভবন, গণভবন ও ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাড়ি যারা রক্ষা করতে পারল না দেশের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হল যে সেনাবাহিনী সেই সেনাবাহিনীকে দেশে রেখে লাভ কী?
বাংলাদেশে বহু আগে পূর্বের এক সরকারের আমলে অনেক সেনা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। এবং তারা কয়েকশো কোটি টাকার মালিক হয়ে গিয়েছিলেন।
এবার বর্তমান বাংলাদেশেরএকাংশ সেনাবাহিনীর রাখার প্রয়োজনীয়তা কী, সেই প্রশ্ন তুলছে। কারণ আইসল্যান্ড, পানামা, ভ্যাটিকান সিটি এরকম অনেক দেশেই সেনাবাহিনী ছাড়াই দেশ চলছে। একাংশ বলছে দেশে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর বিকল্প হয় না। কিন্তু বাংলাদেশের মধ্যে একটি ছোট দেশে বিপুল অর্থ ব্যয় করে সেনাবাহিনী রাখা সত্যিই কি খুব প্রয়োজনীয়তা আছে? কারণ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আসছে জনগণের ট্যাক্স থেকে। আর জনগণের ট্যাক্স দিয়ে সশস্ত্র সামরিক বাহিনীকে পরিচালন করা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন সেনাকর তাদের ক্যান্টনমেন্টে বসিয়ে না রেখে যদি উন্নয়নমূলক কোনো কাজে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলেই হয়তো সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা সাধারণ নাগরিক কিছুটা উপলব্ধি করতে পারবে।
যদিও অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাস্তাঘাট মেরামত ব্রিজ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থেকে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু তারপরেও সাধারণ নাগরিক জানাচ্ছে যে সেনাবাহিনী গুরুতর কোন উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। কারণ অনেক বেশি দেখা যায় যে সেনাবাহিনী উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। কারণ বাংলাদেশে এরকম অনেক চাষের জমি পড়ে আছে, যেখানে কৃষিকাজ বন্ধ, তাদের তত্ত্বাবধানে কৃষিকাজ শুরু করতে পারে, যে সমস্ত কলকারখানা ও শিল্প বন্ধ সেখানেও তাদের তদারকিতে সেই সমস্ত শিল্প কলকারখানা গুলি পুনরায় সক্রিয় করে তুলতে পারে।












Discussion about this post