চীনা নেভাল বেসকে ভয়ংকর আক্রমণ করে উড়িয়ে দিল আরাকান আর্মি। মায়ানমারের সঙ্গে চীনের এতটাই ভালো সম্পর্ক যে মায়ানমারের একের পর এক সম্পত্তিতে চীনা আধিপত্য দেখা গিয়েছিল। নির্দিষ্টভাবে এই অঞ্চলটিকে চীন নিজের মত করে সাজিয়ে 10 বিলিয়ন ডলার প্রজেক্ট এখানে নিতে শুরু করেছিল চীন সরকার। আর আরাকান আর্মি এই বন্দরটিকে নিজের অধীনে নিয়ে নিল। এই নির্দিষ্ট বন্দরটি নিতে চীনের একাধিক ষড়যন্ত্র ছিল। সবার প্রথমে ভারত এই বন্দরের বিরোধিতা করে। পরবর্তীকালে মায়ানমার সরকারের সঙ্গে কালাদান বন্দরের প্রজেক্ট যখন নেয়, তখন চীনের এই নির্দিষ্ট বন্দরটির বিরোধিতা দেখে ভারত সরকার সরে আসে।
এই বন্দরটি চীন কেন বানিয়েছিল? কারণ এই বন্দরটি থেকে চীন ওয়েল ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট করে। আর এখানেই যদি একটা নেভাল বেশ ক্যাম্প করা যায়, তাহলে এক্সপোর্ট, ইমপোর্টের উপর নজরদারি করা যাবে তাই নয়, ভারতের আধিপত্যের উপর নজর রাখা যাবে। আর সেটাই চেয়েছিল চীন সরকার। আরাকান আর্মি সেই বন্দরটিকেই টার্গেট করে। অর্থাৎ খেলা ঘুরিয়ে দিল আরাকান আর্মি।
এদিকে ফের আরকান আর্মিরা সক্রিয় হচ্ছে। মায়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে বাকি যেটুকু অঞ্চল ছিল জুনটা বাহিনীর আয়ত্তে। সেটাও নিয়ে নিয়েছে তারা। অর্থাৎ রাখাইন অঞ্চল আলাদা রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি পেতে আর বেশি দেরি নেই। খুব শীঘ্রই নতুন একটি প্রতিবেশী দেশ পেতে চলেছি আমরা। নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়ছে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে। তারমধ্যে খবর, কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা। যদিও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। হামলার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন বলে খবর। পাশাপাশি আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। অর্থাৎ চারিদিক থেকে চাপে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ এশিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ রাষ্ট্র বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সংযোগ সেতু হিসাবে কাজ করে। প্রতিবেশী নতুন রাষ্ট্র পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অত্যধিক জনসংখ্যা বাংলাদেশের জন্য খুবই অস্বস্তিকর। এর মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে স্বাধীনতার অপেক্ষা মাত্র। কারণ সেই রাজ্য এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দখলে। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আরাকান আর্মি। তবে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত চিন্তার। বাংলাদেশের সামরিক ব্যর্থতার কারণে রাখাইন- এ হতে পারে বাংলাদেশের জন্য সংকট।
এরমধ্যে আরাকান আর্মি পণ্যবাহী জাহাজ আটকে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তবে কেন হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বাংলাদেশের জন্য? এই প্রশ্নই উঠছে।
ইতিহাস বলছে, মায়ানমারে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের লড়াই এখন নতুন নয়। জুনতা আর্মির বিরুদ্ধেও তৈরি হয়েছে একাধিক গোষ্ঠী। তবে অত্যন্ত শক্তিশালী এই আরাকান আর্মি। তাঁদের লক্ষ্য স্থির। আরাকান প্রদেশের স্বায়ত্ত্বশাসন করা। যদিও দিতে রাজি নয় জুনতা। সে কারণেই প্রায় দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে এই লড়াই।
ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশের দুই দিক থেকে সীমান্ত রয়েছে। ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে। সেই মিয়ানমারে যেভাবে দাপাচ্ছে আরাকান আর্মি তা বাংলাদেশের জন্য ভযবহের। ইতিমধ্যে তারা মংডু শহর দখল নিয়ে নিয়েছে। এই অংশের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদীর মিয়ানমারের অংশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল আরাকান আর্মি। এদিকে রাখাইন রাজ্য প্রায় আরাকানদের দখলে। তাই বাংলাদেশের জন্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। রাখাইনের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে। তবে সেখানকার পরিস্থিতি ঠিক কী অবস্থায় আছে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কারা, সেটি নিশ্চিত হয়েই পদক্ষেপ নিতে হবে।
আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ মিয়ানমারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও ইস্যু হবে কি না প্রশ্ন উঠছে। তবে এখনও যে খবর, বাংলাদেশ পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ আরাকান আর্মির সাথে এর মধ্যেই যোগাযোগ হয়েছে কি না কিংবা যোগাযোগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে কিনা সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।












Discussion about this post