বাংলাদেশের পরিস্থিতি দিন দিন জটিল থেকে জটিলতর হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি শোধরানোর কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। আর শিরোনামে উঠে আসছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের কথা। আর এবারে সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে উঠে এল অভিযোগ। সেনাপ্রধান নাকি কাজ করছেন, কোনও এক নির্দিষ্ট দলের জন্য। কি সেই দল?
আসলে কিছুদিন আগে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। আর সেখানে উল্লেখ করেন, বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়। তিনি লেখেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আর এটার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। সেনানিবাসে তিনি সহ কয়েকজন ছাত্রনেতাকে তাকে ডাকা হয়। আর সেখানেই এই প্রস্তাব দেন ওয়াকার। সেই নিয়ে তর্কাতর্কিও হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে যান ছাত্রনেতারা। তারপরই হাসনাত খুব স্পর্শকাতর ভাবে উল্লেখ করেন, নিজেদের রক্ত দিয়ে এই অভ্যুত্থান হয়েছে। যদি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ অংশগ্রহণ করে, তবে জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ তাদের কাছে। শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবেই ঘোষণা করার পালা।
হাসনাতের এই দীর্ঘ পোষ্টের বিরোধিতা করেন তারই এক সহযোদ্ধা সারজিস আলম। এরপরই পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে পড়ে। সেনাপ্রধান বুঝতে পারেন, তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তড়িৎ পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি বৈঠক দেখেনি সেনানিবাসে। এমনকি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন, তারক প্রমাণ করেন সেনাপ্রধান। সেনাবাহিনী এখন বাংলাদেশের রাজপথে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে একটা গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে রয়েছে। কিন্তু সেটি নিয়ন্ত্রণ করেছেন সেনাপ্রধান। এমনকি সেনা নিবাসে সেনা অভ্যুত্থানের একটা পরিকল্পনা ছিল। সেটাকেও মাত দিয়েছেন ওয়াকার।
অর্থাৎ মোটের উপর বাংলাদেশের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওয়াকার উজ জামান। তবে এখন পরিস্থিতি খানিকটা সেনাপ্রধানের দিকে। এইসবের মাঝে বাংলাদেশের মানুষ বুঝে গিয়েছেন, একমাত্র সেনা প্রধানই তাদের পাশে রয়েছেন। কাজেই, যেকোনো দেশের সব থেকে বড় শক্তি সেই জনগণ এর আস্থাভাজন সেনানিবাস, সেনাবাহিনী। এখন দেখার, সবকিছু সামলে উঠে একটা সুস্থ নির্বাচনের জন্য পরিকাঠামো তৈরি করে দিতে পারেন কিনা বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।












Discussion about this post