২৬ মার্চ বাংলাদেশে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে হইচই শুরু হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে উপলক্ষে লাল পতাকা হাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন একদল লোক। এ সময় উপস্থিত জনতা তাদের ধাওয়া দিয়ে কয়েকজনকে মারধর করেন। পরে পুলিশ তিনজনকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান কয়েকজন লোক। এ সময় তারা হাতে লাল পতাকা নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে উপস্থিত জনতা তাদের ধাওয়া দিয়ে কয়েকজনকে মারধর করেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আওয়ামী লীগ সন্দেহে তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর কবির বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। এ সময় তাদের আটক করে আশুলিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
অন্যদিকে, ২৫ মার্চ মঙ্গলবার গণহত্যা দিবস উপলক্ষে উপজেলা অডিটরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক এক আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কাজী সাখাওয়াত হোসেন তার বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বক্তব্য শেষ করেন। তখন সেখানে উপস্থিত কিছু রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা তার বক্তব্যের বিরোধীতা করলে তখনই ক্ষমা চেয়ে নেন সাখাওয়াত হোসেন।
জানা যায়, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তি যোদ্ধা সংসদের কমান্ডারদের উপস্থিতিতে এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময়,স্থানীয় এক সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা ২৫ মার্চের আলোচনা সভায় বলা কাজী সাখাওয়াত হোসেনের জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে উত্তেজিত হয়ে তার ওপর চড়াও হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যান । অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সামনে এ নিয়ে উত্তেজনা ও বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা কাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় আমি ‘জয় বাংলা’ বলেছিলাম, এটি মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন বলে যাব। তাহলে জয় বাংলা স্লোগান বলা কি অপরাধ?
অর্থাৎ, সেদেশে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ‘ জয় বাংলা’ স্লোগান কে আওয়ামীলীগ এর নতুন উস্কানি হিসাবে বিবেচনা করে এই ঘটনায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলো পদ্মাপাড়।












Discussion about this post