২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দলের ভরাডুবির করুন চিত্র। সকলেরই মনে আছে নিশ্চয়ই। এরপরই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানেই যাচ্ছিলেন সেখানেই তাকে বিজেপিকর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ বলে আন্তরিকতা পোষণ করছিলেন! আর সেই সময় গাড়ি থেকে নেমে মুখ্যমন্ত্রী তেড়ে-ফুরে বলেছিলেন আমাকে গালি দিচ্ছে। যদিও সেই সময় মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছিল রাম নাম কিভাবে গালি হতে পারে? কিন্তু সময় যত এগিয়েছে ততই সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়েছে শাসকদলে ‘জয় শ্রীরাম’ শব্দের অর্থ।
রাম নামে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভীত সন্ত্রস্ত এবং সেটিকে গালাগালি বলে আখ্যায়িত করবেন সেটা খুব সাধারণ একটি সমীকরণ। কারণ যে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ‘মহাকুম্ভ’ কে ‘মৃত্যুকুম্ভ’ বলতে পারে। রেড রোডে বিশেষ সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে হিন্দু ধর্মকে ‘নোংরাধর্ম’ বলে চিহ্নিত করতে পারেন সেখানে এই বিষয়টি বুঝতে কোন যুক্তির প্রয়োজন নেই সাধারণ মানুষের।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল বিজেপি তারা মুখ্যমন্ত্রীকে কাবু করতে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানকেই অস্ত্র বানাতে উদ্যত। সেইসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তিনি স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছেন রামনবমী যাত্রায় পশ্চিমবঙ্গের এক কোটি মানুষ রাস্তায় নামবেন। আর সেখানে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির পাখির চোখ হবে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে হিন্দু সংগঠন জোরদার হলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে শাসকদলের অবস্থান দুর্বল করতে সচেষ্ট হবে বিজেপি। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিকল্পনার আচ পেয়েই রাজ্যের শাসক দল চাইছে যেভাবেই হোক রামনবমী বন্ধ করতে।
রামনবমী বন্ধের পরিকল্পনায় যখন শাসক দলের পুলিশ রাস্তায় নেমেছে, দেখা যাচ্ছে তারা নজিরবিহীনভাবে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে শুরু করছেন আটক করার হুমকি দিচ্ছেন।
প্রতি বছর রামনবমী উপলক্ষে রাজ্যের একাধিক জায়গায় ধর্মীয় মিছিল বের হয়। বিগত বছরগুলিতে মিছিলকে ঘিরে উত্তেজনাও প্রকাশ্যে এসেছে। গোষ্ঠী সংঘর্ষ কে প্রতিহত করতে পুলিশ প্রশাসনকে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করার নির্দেশ থাকে সরকারের তরফে । এবার তাই আগেভাগেই ব্যবস্থা নিল নবান্ন।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অতিরিক্ত ডিজিপি, প্রশাসন, জেলার পুলিশ সুপার ও পুলিশের বিভিন্ন আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের ছুটির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হলো , ২রা এপ্রিল থেকে ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত কোনও পুলিশ কর্মীর ছুটি মঞ্জুর করা হবে না । যদিও ঠিক কি কারণে এই ছুটি বাতিল করা হল, তার স্পষ্ট বিবৃতি ওই নির্দেশিকায় বলা হয়নি।
প্রতি বছরই রাম নবমীর দিন শহর কলকাতা তো বটেই রাজ্যের নানা প্রান্তেই একাধিক সংগঠনের তরফে শোভা যাত্রা বের করা হয়। এবার ভোটের তাপে তপ্ত বঙ্গে যেন রাম নবমী নিয়ে চর্চার ঝাঁঁঝ আরও বেশ খানিকটা বেড়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অ্যাকশন মোডে দেখা যাচ্ছে কলকাতার নগর পাল মনোজ ভার্মা কে। শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে নগর পাল জানান, “কেউ কোন প্ররোচনায় পা দেবেন না। অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় পার হলে আইনানুপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” যে এলাকায় রামনবমীর শোভাযাত্রা পার হতে পারে সেই সেই এলাকায় বিশেষ নজরদারিও চলছে। বিগত কয়েক বছরে ঐ দিন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা রকম অশান্তির খবর সামনে এসেছে। তাই এবার যাতে কোনো কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সেই দিকেই করা নজর পুলিশ প্রশাসনের ।
অন্যদিকে প্রত্যেক বছরই রাম নবমীর দিন শহর কলকাতায় এবং রাজ্যের নানা প্রান্তেই একাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। কিন্তু এই রামনবমীর শোভা যাত্রায় বারবার অশান্তি হয়েছে। এমনকী গুলিও চলেছে। ওই দিন বড় অংশের মানুষের ঢল নামবে রাস্তায়। এমনটাই মনে করছে পুলিশ।
তবে রাজ্য পুলিশের তৎপরতা দেখে রাজ্য বিজেপির নেতারা ক্ষুব্ধ। রাজ্য প্রশাসনই রামনবমীর শোভাযাত্রায় রাজনীতির রং লাগাতে চাইছে বলে দাবি বিজেপি নেতাদের।
Discussion about this post