বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের উত্থানের শঙ্কা এবং নারী নির্যাতন করার বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম বাংলাদেশ স্থিতিস্থাপকতা, সংস্কৃতি এবং প্রগতিশীল চিন্তার সমৃদ্ধ ইতিহাস সহ একটি বৈচিত্র্যময় এবং গতিশীল সমাজ আছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, নারীর শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে উগ্রবাদীরা বিষয়টি শুরু করেছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কর্তৃত্ববাদী নেতাকে উৎখাতের পর একধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতার মধ্যে একটি শহরের ধর্মীয় মৌলবাদীরা ঘোষণা দিয়েছে, তরুণীরা আর ফুটবল খেলতে পারবে না। আরেকটি শহরে এই মৌলবাদীরা এমন এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে পুলিশকে বাধ্য করেছে, যিনি হিজাব না পরায় প্রকাশ্যে এক নারীকে হেনস্তা করেছিলেন। পরে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পাশাপাশিআশঙ্কা করা হয়েছে , শেখ হাসিনার আমলে নয়, ইউনূসের আমলে বেড়ে উঠছে সঙ্গী সংগঠনগুলি। এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসতেই চাপে অন্তর্বর্তী সরকার। আর এই ধাক্কা যে অনেক বড়, সেটা বোঝা গেল, প্রেস সচিবের পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ভুয়ো বলে দাবি করা থেকে।
জানা গিয়েছে, নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার সঙ্গে মহম্মদ ইউনূসের সম্পর্ক অনেক পুরনো। যখন হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিল, তখন মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে করা একাধিক মামলা ছিল। তখন এই পত্রিকা তার পাশে ছিল। কিন্তু হঠাৎ এখন দেখা যাচ্ছে, এই পত্রিকা ইউনূসের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের ঘটনা তো রয়েছেই। পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলি বাড়ছে। এই নিয়ে রিপোর্ট পেশ করে তারা। যেটা এইবার ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য করবে মহম্মদ ইউনূসকে। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। বিশ্ব দরবারে নেতিবাচক হিসাবে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশকে। শুধু তাই নয়, সরব হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত। কিন্তু পরিস্থিতির বদল নেই। উদাসীন সেদেশের রাষ্ট্রপ্রধান। অভিমত রাজনৈতিক মহলের।তবে এই পরিস্থিতি আয়ত্তে আসতে পারে, যদি স্থায়ী সরকার গঠন করা যায়। কিন্তু নির্বাচনের উচ্চবাচ্য নেই বাংলাদেশের অন্দরে। বরং কিভাবে নির্বাচন আটকানো যায়, দেরি করানো যায়, তারই চেষ্টা চলছে। এমনকি অনেকে বলছেন, আসলে ইউনূস গদি ছাড়তে নারাজ। তারই চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশে রয়েছে ছাত্রনেতারা। তবে একটি বিষয়ে নজর রাখা উচিত দেশের রাজনৈতিক দলগুলির। তারা চাপ সৃষ্টি করলে নির্বাচন হতে বাধ্য। কিন্তু কতটা তারা সুর চড়াচ্ছে, সেটার উপরও খানিকটা নির্ভর করছে, বলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
Discussion about this post