সাম্প্রতিককালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক যুদ্ধে নামতে দেখা গিয়েছিল চীনকে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয়ে পড়ে যে আমেরিকা চীনের উপর ২৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। আর এই চড়া হারে শুল্ক আরোপের চাপ চীনের উপর পড়তেই। চীন এখন ভারতেরসঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এমনকি চিনের আম্বাসেডর তরফ থেকে জানানো হয় এটাই উপযুক্ত সময় ভারত এবং চীনের একসঙ্গে কাজ করার। অর্থাৎ যখন আমেরিকা চীনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তখন ভারত একমাত্র চীনকে বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে।
দেখা গিয়েছিল যদিও চীনের ক্ষেত্রে ভারতের তরফ থেকে একটি ইতিবাচক পূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এরপর যে চীনের সঙ্গে ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা ভাবছে সেই চিনই একাধিক প্রতিবেশী দেশকে উসকে দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা শুরু করেছে। প্রথমে চীন শ্রীলংকার কাছে চায় এবং সেখানে গিয়ে তাদের একটি বন্দর দখল করে একটি জাহাজ স্থাপন করে যদি ভারতের বিভিন্ন কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালাচ্ছিল। কিন্তু এরপরই শ্রীলংকা সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে শ্রীলংকা সরকার জানিয়ে দিল এরপর থেকে শ্রীলংকার মাটি ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে কোন সন্ত্রাসবাদীর কাজ করতে সমর্থন জানাবে না তাদের দেশ। এরপর চিনের কাছে যখন শ্রীলংকার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল তখন তারা বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে সেখানকার অন্তর্বর্তীকালের সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস এর কাছে নিজেদের প্রস্তাব রাখল। চীনের সেই পাতা ফাঁদে পাও দিয়ে দিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর থেকে শুরু হয়ে গেল একের পর এক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের ষড়যন্ত্র। এরপরে দেখা গেল চীন সফরে গিয়ে মোহাম্মদ ইউনুস তিনি চীনকে ভারতের সেভেন সেষ্টারদের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটাতে আহ্বান জানালেন। এমনকি এই সেভেন সিস্টার্স কে দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র ও কৌশল করার বিষয় উদ্যোগী হওয়ার বার্তা দিতে দেখা গেল মহম্মদ ইউনুসকে। সেই সূত্র ধরেই তিনি ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরে চীনের একটি এয়ারবেস স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়ে এলেন। আর মোহাম্মদ ইউনুস এর চীনকে বাংলাদেশে প্রবেশের আহবানের সুযোগটি ও হাতছাড়া করতে চায় না চীন সে কারণেই এরপর দেখা গেল চিন তিস্তা চুক্তির দিকে নজর রাখছে। কিন্তু স্বয়ং বাংলাদেশ সরকারই ঘোষণা দিয়ে জানাচ্ছে যে যখন ভারত রাজি হবে তখনই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব। অর্থাৎ ভারতের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করে বিশ্বের দরবারে নিজে কর্তৃত্ব বজায় রাখতে গিয়ে মুহাম্মদ ইউনুস যে উভয় সংকটে পড়ে গিয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এবার শুধু বাংলাদেশী নয় বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন কেউ করতে হলো ভারতের ভয়ংকর কৌশলের মায়াজালে।
উল্লেখ্য, ভারত এবং গোটা মার্কিন বিশ্বের উপর টারিফ কমাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো ২৪৫ শতাংশ টেরিফ চীনের উপর চাপিয়ে দেয়। যার ফলে একেবারে আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। আর এই পরিস্থিতিতে ভারতের ওপর ক্রোধ প্রকাশ করে নিজের পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করে চীন।
জানা যাচ্ছে,এরপরেই ভারত পাল্টা চীনের বিরুদ্ধে নতুন কৌশল শুরু করে দিয়েছে চীনের পরিকল্পনার পাল্টা পরিকল্পনা হিসেবে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে খ্যাত ভারত। এবার ভারতই কিছু ইস্পাত আমদানির উপর ১২% অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছে, যা স্থানীয়ভাবে একটি সুরক্ষা শুল্ক হিসাবে পরিচিত, এটি মূলত চীন থেকে সস্তা চালানের বৃদ্ধি রোধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। গোটা বিশ্বে ভারত এমনই একটি দেশ যারা স্থানীয় শিল্পকে রক্ষা করার জন্য আমদানি রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, ২১ এপ্রিল থেকে ২০০ দিনের জন্য এই শুল্ক কার্যকর থাকবে, যদি না প্রত্যাহার, বাতিল বা সংশোধিত হয় এর আগেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিল মাসে বিভিন্ন দেশের উপর বিস্তৃত শুল্ক আরোপের পর থেকে চীনের সাথে তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি নয়াদিল্লির প্রথম বড় বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন হিসাবেই দেখছে কূটনৈতিক মহল।












Discussion about this post