১৯৪৭ সালের পর থেকে শুরু করেছে পাকিস্তান। কিভাবে ভারতের ক্ষতি করা যায়। উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে ভারত বিরোধীতা ভারতবিদ্বেশ। সে জন্ম লগ্ন থেকে যুদ্ধে নেমে দখল করেছে কাশ্মীরের বড় একটি অংশ। তারপর যুদ্ধে জড়িয়েছে ১৯৬৫ সালে, ১৯৭১, ১৯৯৯ সালে। এছাড়াও অজস্রবার জঙ্গি নামিয়ে ভারতকে ক্ষত বিক্ষত করেছে। কিন্তু ভারতের তরফে নম্র ভাব প্রকাশ করা হয়েছে। হয়তো ভারত ভেবেছিল, প্রতিবেশীর চৈতন্য হবে। কিন্তু কোথায় কি! ফের একবার জঙ্গি হামলা। কাশ্মীরের পাহেলগাওয়ে নৃশংস ভাবে ২৬ জন পর্যটককে গুলি করে খুন করা হল। এই ঘটনায় ভারতের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। পরপর কয়েকটি পদক্ষেপ করেছে ভারত সরকার। এরকম পদক্ষেপ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। সেটা হল, ১৯৬০ সালে যে ইন্দাস ওয়াটার এগ্রিমেন্ট হয়েছিল IWA, দু দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল সেই চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে ভারত। এই চুক্তিতে আছে, ভারতে উৎপন্ন হওয়া ৬ টি নদী পাকিস্তানের ভিতর দিয়ে বয়ে গিয়ে আরব সাগরে পড়েছে। সেই নদীগুলির নাম রাবি, বিপাশা, ইন্দাস বা সিন্ধু, শতদ্রু, ঝিলাম ও চেনাব। সিন্ধু নদী ব্যবস্থা এই ছয়টি নদীর জল কিভাবে কোথায় যাবে, বিষয়টি নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে তিনটি নদী, সিন্ধু, ঝিলাম, চেনাব …এর ভারতে উৎপন্ন হয়ে পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে প্রভাবিত হয়েছে। আর অন্য তিনটি ভারতে উৎপন্ন হয়ে পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়েছে। এখন ১৯৬০ সালে সিন্ধু জল চুক্তিতে এই নদীর জল বণ্টনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। কিভাবে এই নদীর জল বন্টন করা হবে। সেই চুক্তিতে রয়েছে, রাবি, শত্রুদ্র, ও পিয়াসের জলের উপর ভারতের একচেটিয়া অধিকার এবং সিন্ধু, ঝিলাম এবং চেনাবের উপর পাকিস্তানের একচেটিয়া অধিকার। ১৯৬০ সালে বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাঁধ তৈরীর সমস্ত খরচ ভারত নিজে বহন করেছিল। এবং পাকিস্তানের অংশে সিন্ধু অববাহিকা নির্মাণের খরচ হিসাবে ৬ কোটি ২০ লক্ষ ৬০ হাজার পাউন্ডের পুরোটাই ভারত বহন করে নিজে। তারপরে ভারতের তত্ত্বাবধানে গত ৬৫ বছর ধরে চুক্তি মাফিক জল বন্ধন হয়ে এসেছে। আর সেই জলবন্ধন এবার বন্ধ হল কাশ্মীরের ভয়াবহ ঘটনায়। আসলে বন্ধ করলো ভারত। এর জেরে চূড়ান্ত ক্ষতির মুখে পড়ল কৃষি নির্ভর পাকিস্তান। তবে সাময়িকভাবে পাকিস্তান এই ক্ষতি অনুভব করতে না পারলেও পরে তা বুঝতে পারবে। যদিও পাকিস্তান ভয় পেয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই বলেছে, ভারত যে পদক্ষেপ করেছে, সেটা যুদ্ধ ঘোষণার সামিল। তবে যতই পাকিস্তান হুমকি দিক, ওই চুক্তিতে বলা ছিল না, যে কোনও দেশ বেরিয়ে যেতে পারবে না। ফলে অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়বে পাকিস্তান।
তবে শুধু পাকিস্তান নয়, পাকিস্তানের বড় সাগরেদ বাংলাদেশও বিপদে পড়তে পারে। পাকিস্তান যেমন ভারতের সঙ্গে শত্রু মনোভাব নিয়ে চলাফেরা করে, ঠিক একই আচরণ করতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল বন্টন চুক্তির মতো বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে আগামী বছর। নতুন করে এই চুক্তি করার জন্য আলোচনা করতে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি দল এসেছিল ভারতে। কিন্তু ভারত নাকি সেই আলোচনায় বসেনি। ভারতের বক্তব্য, নির্বাচিত সরকার ছাড়া তারা আলোচনায় বসবে না। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক সমস্ত দিক থেকে বৃদ্ধি পায়। ১৯৯৬ সালে ১২ই ডিসেম্বরে দুই দেশের নেতৃত্ব মিলিত হয়ে নয়া দিল্লিতে ৩০ বছরের এই চুক্তির স্বাক্ষরিত করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩১ সে মে ফিরাক্কা থেকে জল বন্টন করা হবে। যে কোনও সংকটের সময় বাংলাদেশকে ফারাক্কা জলাধার থেকে ভারত ৩৫ হাজার কিউসেক জল সরবরাহ করার গ্যারান্টি দিয়েছিল ভারত। দুই দেশের মধ্যে এরকম একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে, ভারতের গঙ্গা জলে প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং নিম্ন অববাহিকায় বাংলাদেশের অধিকার সহ জলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এই চুক্তি মারফত। দুই দেশি জল
সংকট সমঝোতায় পৌঁছায়। ২০২৬ সালে এই চুক্তি শেষ হবে। এরপর কি করবে বাংলাদেশ? এই প্রশ্নটাই এখন প্রাসঙ্গিক। এদিকে ভারত স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে, নির্বাচিত সরকার ছাড়া এই চুক্তি নিয়ে কোন কথাই বলবে না। এবং এক্ষেত্রে যদি হাসিনা সরকার ছাড়াও অন্য কোন সরকার ক্ষমতায় আসে, ভারতের সঙ্গে সেই সম্পর্ক এক হবে কিনা, সেটা নিয়ে বিস্তর সংশয় রয়েছে। এখন তিস্তার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। জটিল করে তুলেছেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস। চীন সফরে গিয়ে তিস্তা বারেজ উন্নয়ন প্রকল্প তুলে দিয়েছেন চীনের হাতে। ফলে এটা যে ভারত খুশি হবে না সেটা বলাই বাহুল্য। ভারত যদি না চায় তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়া মুশকিল। ফলে জল কখন ভারত দেবে বা দেবে না সেটা ভারতের মর্জির ওপর নির্ভর করছে। এখন এই প্রশ্নটাই উঠছে, পাকিস্তানের যে পরিস্থিতি হলো সেই পরিস্থিতি বাংলাদেশের হবেনা তো! তার উত্তর দেবে একমাত্র সময়।












Discussion about this post