ভারত পাকিস্তান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি যে মন্তব্য করেছেন তাতে তোলপাড় গোটা বিশ্ব। আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশের জন্যই পাকিস্তান নোংরা খেলা চালিয়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে! দাবি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। পাকিস্তানের ঐক্যপট শিকার, দিনের পর দিন পাকিস্তান কে ব্যবহার করে গিয়েছে আমেরিকার মত শক্তিশালী দেশ।
স্কাই নিউজের সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন উত্তরে উঠে এসেছে পাকিস্তানের বিস্ফোরক কিছু মন্তব্য। ওই সাক্ষাৎকারে তখন পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফকে প্রশ্ন করা হয়, সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে গোটা বিশ্বের নিশানা এখন পাকিস্তান। আর এর পরিপ্রেক্ষিতেই উঠে আসে সেই ভয়ংকর উত্তর। পাক সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, হ্যাঁ তারা সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে গিয়েছে বিভিন্ন দেশের উপর কিন্তু তাদের এই সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়েছে আমেরিকার মত উন্নয়নশীল একটি দেশ।
খাজা আসিফ বলেন, “আমরা প্রায় ৩ দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই নোংরা কাজটি করে আসছি এবং পশ্চিমা বিশ্ব, যার মধ্যে ব্রিটেনও আছে… এটা একটা ভুল ছিল, আর এই ভুলের মাশুল আমরা এখনো গুনছি এবং সেই কারণেই সন্ত্রাস বাদে গোটা বিশ্ব পাকিস্তানকে নিশানা করছে। যদি আমরা সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এবং পরবর্তীতে ৯/১১-এর পর যুদ্ধে যোগ না দিতাম, তাহলে পাকিস্তানের ট্র্যাক রেকর্ড অবিচল থাকতো।”
পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সাক্ষাৎকারে ভারতের সাথে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার বিষয়ে সতর্কতা দিয়েছেন। এএনআই জানিয়েছে আসিফের বক্তব্য এ এই সত্যটি প্রকাশ্যে আনে যে পাকিস্তান বহু বছর ধরে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।
স্কাই নিউজের সাক্ষাৎকারের সময় , আসিফ একটি ভিত্তিহীন দাবি করেন যে লস্কর-ই-তৈয়বা, যার শাখা, রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট , পহেলগাম হামলার দায় স্বীকার করেছে, “পাকিস্তানে এর কোন অস্তিত্ব নেই”।
তিনি বলেন,” ভারতের সন্ত্রাসবাদি হামলার পর দিল্লি থেকে আসা প্রতিক্রিয়া আমাদের জন্য অবাক করার মতো ছিল না,”ভারতের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ায় আসিফ বলেন,”আমরা বুঝতে পারি যে এই পুরো ঘটনাটি এই অঞ্চলে, বিশেষ করে আমাদের জন্য, এক ধরণের সংকট তৈরি করতে সাজানো হয়েছিল, যার মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।”
তিনি আরও দাবি করেন যে তার দেশ কখনও দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের নাম শোনেনি। বলেন”আমাদের সরকার স্পষ্টভাবে এর নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার। কিন্তু ভারতে এই ধরণের ঘটনা ঘটছে। এবারও, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে তাদের বা তাদের সেই সংগঠনের নাম কখনও শুনিনি।”
অর্থাৎ পাকিস্তান এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বক্তব্যগুলি কে বিশ্ব নেতারা।
এর আগে, ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি বলেছিলেন যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সন্ত্রাসী হামলার আন্তঃসীমান্ত সংযোগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচনের সফল আয়োজন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের দিকে এর ধারাবাহিক অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলাটি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর, কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়, যেমন আত্তারিতে ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট বন্ধ করা, পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য সার্ক ভিসা অব্যাহতি প্রকল্প স্থগিত করা, তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ৪৮ঘন্টা সময় দেওয়া এবং উভয় পক্ষের হাই কমিশনে কর্মকর্তাদের সংখ্যা হ্রাস করা।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশকে আশ্বস্ত করেছেন যে এই হামলার জন্য দায়ী সন্ত্রাসীরা এবং যারা এর ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের কল্পনার বাইরেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।












Discussion about this post