ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার মসনদে বসতেই চরম আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস। এর যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়টি মার্কিন ইতিহাসে ব্যতিক্রমী। আবার বাইডেন সরকারের আমলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যেভাবে নাজেহাল করেছেন, সেটাও মার্কিন ইতিহাসে কখনও দেখা যায়নি। যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মি. বাইডেন সর্বশেষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেন, সেখানে নির্বাচনের পর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কর্মী বাহিনীর মাধ্যমে খানিকটা সন্ত্রাসী চালিয়েছিলেন। এমন অভিযোগ এসেছিল। ডেমোক্রেটরা এমনিতেই ভয়ে ছিল, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসে তবে সংঘাত চরম আকার ধারণ করবে। এদিকে ট্রাম্প আমেরিকার মসনদে বসতেই মোহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করেন। তিনি নির্বাচনের আগে ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য জোগাড় করেন। পরে ক্ষমতায় এসেই বাংলাদেশ নিয়ে নানা মন্তব্য করেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি নির্বাচিত হয়ে আসার পর মেক্সিকো সাগর বা উপসাগর নাম পাল্টে দিয়েছেন। তারপর কানাডার মত রাষ্ট্রকে আমেরিকার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বলেছেন। তিনি নাকি বলেছেন, কানাডা আমেরিকার অঙ্গ রাজ্য হওয়া উচিত। তিনি ডেনমার্ক এর নিকট থেকে গ্রীনল্যান্ড দখল করার জন্য ঘোষণা করেছেন। অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ বলে থাকেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকটা খেয়ালী মানুষ। তিনি যে কোনও মুহূর্তে যা কিছু করে ফেলতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প যে ইউনূসের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে, সেটা বলাই বাহুল্য। আসলে মোহাম্মদ ইউনূসের যে আমেরিকান ক্লিনটন রয়েছে, তার সঙ্গে জজ সরসের নাম আসে। যিনি আমেরিকার ডিপ স্টেট পরিকল্পনায় অর্থ বিনিয়োগ করেন। অনেকেই জানেন, আমেরিকায় এমন কিছু সংস্থা বা এনজিও রয়েছে, তাদের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে রাষ্ট্র ক্ষমতা বদলে ফেলে। অনেকেই বলে থাকেন, বাংলাদেশের ক্ষমতার বদল ঘটাতে ডিপ স্টেটের হাত রয়েছে। যদিও সেটা নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে।
এরমধ্যে আমেরিকাতে একটি পট পরিবর্তন হয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের পট পরিবর্তনে জো বাইডেনের পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে করেন অনেকে। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক হয়। যে বৈঠকনিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে উচ্ছাস দেখা গিয়েছিল অন্যদিকে ইউনুস সরকারের লোকজনদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল। আসলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে যে কার্যকলাপ চলছে, তাতে নিজের সরকারের উপরই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মোহাম্মদ ইউনূসের। আসলে যখন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বা জজ সরষের ছেলের সঙ্গে যখনই ইউনুস বৈঠক করেছেন, তখনই তারা বুঝে গিয়েছে এই সরকারের তেমন কোনও ভিত্তি নেই। এর জেরে ইউনুসের সরকার আরও বেশি করে অস্থিরতায় ভুগতে শুরু করে। যখন নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হয় তখন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রম বলেছেন বাংলাদেশের বিষয়টি মোদীর উপর ছেড়ে দিলাম। আর এই খবর সামনে আসতেই অন্তর্বর্তী সরকারের নেতারা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকে। আর এতেই বোঝা যায় তাদের আত্মবিশ্বাস ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে। অর্থাৎ ইউনুস ভঙ্গুর। আর তিনি ক্ষমতা ছেড়ে খুব শীঘ্রই চলে যেতে হতে পারে। সেই দিনই ঘনিয়ে আসছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনা যেভাবে আওয়ামী লীগের ভারটুয়াল মিটিংয়ে বলছেন, তার বাংলাদেশে ফেরা শুধু সময়ের অপেক্ষা, তাতে তিনি যে খুব তাড়াতাড়ি দেশে ফিরতে পারেন, সেটাই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, শেষমেষ কি পরিস্থিতি হয়।












Discussion about this post