বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন একটি বিবৃতি জারি করেছেন। তিনি বলেছেন, রাখাইনে মানবিক সহায়তায় শর্ত সাপেক্ষে করিডর দিচ্ছে সরকার। যে রাখায়নে রয়েছে আরাকান আর্মি। জাতিসংঘ এবং আমেরিকা চাইছে রাখাইনে শান্তি বজায় রাখতে। শান্তি বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশকে তারা ব্যবহার করবে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে তারা রাখাইনে পৌঁছবে। এমন কি বলা হচ্ছে, তারা এমন কিছু করবে যেখানে আরাকান আর্মির প্রভাব মুক্ত হবে এবং শান্তি স্থাপন করা যাবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় ফাঁদে পা দিয়েছেন মোহাম্মদ ইউনুস। ফেঁসে গেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিবৃতিতে বলেছেন, শর্ত সাপেক্ষে এটা মেনে হয়েছে। তবে ওই শর্তগুলি কি কি? সেগুলি কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে? মোহম্মদ ইউনূস নাকি গোটা অন্তর্বর্তী সরকার? উঠছে প্রশ্ন। কারণ সেই শর্তাবলী রেখে আমেরিকা এবং জাতিসংঘ বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে রাখাইনে পাঠাবে মানবিক সাহায্য। অনেকে বলছেন, জাতিসংঘ কোনও মানবিক সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করছে না। তারা আরাকান আর্মির হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করছে বাংলাদেশকে। এছাড়াও ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইউনুস এমন ফেঁসে গিয়েছেন, তাতে কিছু করার নেই বাংলাদেশের। আরাকান আর্মি মায়ানমারের জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই জুন্টা সরকারকে চীন সমর্থন করে। অর্থাৎ এই বিষয়ে আমেরিকার হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন থাকতে পারে। কারণ যদি আরাকান আর্মিকে দিয়ে বাংলাদেশের এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, তবে চীন কখনই মেনে নেবে না। জুন্টা সরকারকে সমর্থন করে চীন। অর্থাৎ মায়ানমারকে কেন্দ্র চীন এবং আমেরিকা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে এবং প্রক্সি হিসাবে থাকবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রক্সি ওয়ারে জড়িয়ে পড়বে বাংলাদেশ। কারণ এই বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই আরাকান আর্মিদের নিশানায় চলে এসেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদশের এই ভুল সিদ্ধান্তে সেনাপ্রধান কোথায়? তিনি কেন আটকাচ্ছেন না?
এদিকে কিছুদিন আগে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেক সম্মেলনে গিয়েছিলেন। সেখানে ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। সেখানে তিনি বলেন, ১লক্ষ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা তিনি ফিরিয়ে দেবেন মায়ানমারে। আমেরিকা তাদের সাহায্য করবে। তারপরই দেখা গেল মার্কিন দুই উচ্চ পদস্থ অধিকারিন বাংলাদেশে এলেন। এবং তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেবো। তার বিনিময়ে করিডোর কে তাদের ব্যবহার করতে দিতে হবে। যার ফলে তারা আরাকানদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে। যদি এই অস্ত্র আরাকানরা পায় তবে মায়ানমারে জুন্তা সরকারের সঙ্গে তারা লড়াই করতে পারবে। জান্তা সরকার সরে যাবে এবং আরাকান আর্মিদের নিয়ে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরি করতে পারবে আমারিকা। এই হল আমেরিকার প্ল্যান। তবে এর মধ্যে পড়ে গেল বাংলাদেশ। আসলে এটা অনেক আগেই বলে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে এবং সেভেন সিস্টার্স লাগোয়া বিভিন্ন অঞ্চলকে আলাদা করে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে। শেখ হাসিনা বুঝে গিয়েছিলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিপদ হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে একমাত্র ভারতী পারতো বাংলাদেশকে বাঁচাতে। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার ভারতের সঙ্গে যে সম্পর্ক করেছে সেখানে ভারত এক্ষেত্রে ঢুকবে না। এখন দেখার, কি পরিণতি হয় বাংলাদেশের!












Discussion about this post