বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অশনি সংকেত! বাংলাদেশে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ যোগ্য রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার নম্রতা বিনয় ভদ্রতার বিকল্প আর কেউ নেই। অর্থাৎ তার মন্তব্যকে সবসময়ই ইতিবাচক ভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে। এবার তিনি বললেন বাংলাদেশ না ভবিষ্যতে গাজায় পরিণত হয়! পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করার দাবি জানালেন।
সোমবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের খাগড়াবাড়ি শেখ বাজারে গণসংযোগের অংশ হিসেবে পথসভায় দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আরাকানদের সঙ্গে যোগাযোগের জন মানবিক করিডোর নিয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ ছিল।’
উল্লেখ্য সম্প্রতি সে দেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শর্ত সাপেক্ষে মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের জন্য করিডর দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান সাংবাদিকদের।
মায়ানমারের পুরো রাখাইন রাজ্যটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত। সেখানে গোলাগুলি চলছে। মায়ানমারের জান্তার সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাত তীব্র হচ্ছে। আরাকান আর্মি নাকি ১৪ টি শহর দখলে নিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তে ২৭১ কিলোমিটার এলাকা মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর দখলে। রাখাইন রাজ্যের সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। মায়ানমারের জান্তা বাহিনী কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে আরাকান আর্মিকে। এর জেরে সমস্ত ধরনের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ সহ বহু সংস্থা দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ হয়ে রাখাইনে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মানবীয় সহায়তার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল সংস্থাগুলি। এমন প্রস্তাব প্রথম দি জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ত্রাণ সংস্থা স্পেশাল এডভাইজারি কাউন্সিল ফর মায়ানমার। গত বছর বাংলাদেশে ক্ষমতার বদলের পর এই সংস্থাটি এমন দাবি তুলে ধরেছিল। সেই সময় একটি বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যে একটি মানবিক করিডর চালু করতে এবং রাষ্ট্রের সমস্ত জাতিগত ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাছে ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য আরাকান আর্মির প্রতি আহ্বান জানায়। এরপরই বাংলাদেশের তরফে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যে রাখাইনে সহায়তা প্রদানের জন্য শর্তসাপেক্ষে মানবিক ও নীতিগত করিডর দেবে বাংলাদেশ।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের প্রথমার্ধে জাতিসংঘ আশঙ্কা করেছিল, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দুর্ভিক্ষ হতে পারে। যে কারণে গৃহযুদ্ধে পর্যুদস্ত রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশকে ‘করিডর’ দেওয়ার অনুরোধ করেছিল জাতিসংঘ।
তবে রাখাইনে মানবিক করিডর প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা আরেকটা গাজায় পরিণত হতে চাই না। আর যুদ্ধ দেখতে চাই না।’
সেই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন,সংস্কার কী আমি বুঝি না। আমি বুঝি গণতন্ত্র, আমি বুঝি মানুষের অধিকার। ইউনূস সরকারের প্রধান দায়িত্ব একটা নির্বাচন করা। সবাই মিলে আমরা ইউনূস সরকারকে নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছি।
প্রসঙ্গত, এবার সকলের আড়ালে দেশ বিক্রির পরিকল্পনা শুরু করেছে মোহাম্মদ ইউনুস বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। জাতিসংঘ তুমি এতদিন গত ১১ ই মার্চ মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গৃহ যুদ্ধের শিকার নাগরিকদের মানবতা সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ ও আরাকান আর্মিকে মানবিক করিডর দিতে বলেছে। তারা বলেছিল, জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশ সফরে সীমান্তের বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঠিক তার দু দিন পরেই বাংলাদেশ সফরে আসেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তিনি গত ১৩ থেকে ১৬ই মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে। তিনি বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন সফল করতে মায়ানমারে মানবতা সহায়তা পাঠিয়ে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবেশ অনুকূল হলে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মানবতা সাহায্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর এরপরই বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক সহায়তার সিদ্ধান্ত। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা সেনাবাহিনীকে এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে কোনরকম ধারণা দেয়নি ইউনুস প্রশাসন।












Discussion about this post