নতুন অ্যাকশনে ভারত! পহেলগাও সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথমবারের জন্য তালিবানের সঙ্গে বৈঠকে ভারত। এই বৈঠকের পর একটি বিষয় জল্পনা তৈরি করছে যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এর থেকেও বড় কিছু অ্যাকশনে নামতে চলেছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, কারণ কিছুদিন আগে তালিবান একটি রিপোর্টে জানিয়েছিল ভারত এবার পাকিস্তানকে টুকরো টুকরো করতে যে কৌশল অবলম্বন করতে চলেছে তা কূটনৈতিক স্তরে একটি মাস্টার স্ট্রোক হতে চলেছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও এর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনার মাঝে সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রদূত আনন্দ প্রকাশের সাথে তালিবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির একটি সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলো। হামলার পর ভারত পাকিস্তানের সাথে তার কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করেছে। ভারত সরকার ২২শে এপ্রিল পাহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার সাথে পাকিস্তানের যোগসূত্র সম্পর্কে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে অবহিত করেছে। তালেবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৌলভী আমির খান মুত্তাকি এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।
পহেলগাও এ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই পর্যটক। আর এই ঘটনার পর এই সাক্ষাৎকারের পর সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
দুই নেতার মধ্যে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার উপর আলোকপাত করা হয়েছিল।
এই বৈঠকে ভারত মুত্তাকিকে জানিয়ে দেয় যে নয়াদিল্লি আফগানিস্তানে তার প্রকল্পগুলির কাজ পুনরায় শুরু করতে এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।
আবার তালিবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের তাৎপর্যের উপর বিশেষভাবে জোরও দিয়েছেন।
আফগানিস্তানে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশের কথা তুলে ধরে তিনি ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের উপলব্ধ সুযোগগুলিকে পুঁজি করার জন্য উৎসাহিত করেন, বিশেষ করে সেই সমস্ত ক্ষেত্রে যেসব ক্ষেত্রে আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দক্ষতা খুঁজছে।
ভারতের বিশেষ দূত আনন্দ প্রকাশ আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্কের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। তিনি আফগানিস্তানে ভারতের সহায়তা অব্যাহত রাখার ইচ্ছাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, বৃহত্তর গতিশীলতা সহজতর করার জন্য ভিসা পদ্ধতি সহজীকরণ, সরকারী প্রতিনিধিদলের বিনিময় প্রচার এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত এবং উন্নয়ন-সম্পর্কিত ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়।
এর আগে, আফগানিস্তান পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছিল এবং সেখানে উল্লেখ করা ছিল যে এই ধরনের ঘটনা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেয়। অর্থাৎ যে টিপিপি এর আগে পাক সেনাবাহিনী একাধিক সদস্যকে নিকেশ করেছে এবার সেই তালিবাণী সংগঠনের সঙ্গে জোট বেঁধে ভারত যে নতুন কোন কূটনৈতিক কৌশলে উদ্যোগী তার বলার অপেক্ষা রাখে না বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।












Discussion about this post