অবাক করা কান্ড! ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করল আমেরিকা। ভারত-পাক যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদির স্পষ্ট বার্তা, পুলওয়ামা থেকে পহেলগাঁও একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা আর বরদাস্ত করবেনা ভারত। তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এবার যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু ভারতীয় সেনার। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি একই দিনে একাধিক বৈঠক ভারতের প্রধানমন্ত্রীর। তবে এবার এই যুদ্ধ ঠেকাতে তৎপর আমেরিকা।
এবার ইউনূসের মুখেও যুদ্ধের কথা। বুধবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আয়োজিত ‘আকাশ বিজয়’ মহড়া প্রধান অতিথি হিসাবে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস তার বক্তব্যের মাধ্যমে নিজ দেশে যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করার বার্তা দিয়েছেন।বর্তমান বিশ্বে চারদিকে প্রতিনিয়ত যুদ্ধের হুমকি থাকায় প্রস্তুতি না নিয়ে থাকা সম্ভব না বলে মন্তব্য করেছেন সেদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুগোপযোগী বিমানবাহিনী গড়ে তুলতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ”আমি যুদ্ধবিরোধী মানুষ। পৃথিবীতে যুদ্ধ হোক এটা আমরা কামনা করি না। যুদ্ধপ্রস্তুতি অনেক সময় যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়। কাজেই যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়েও একটা ঘোরতর আপত্তি। কিন্তু এমন বিশ্বে আমরা বাস করি, প্রতিনিয়ত যুদ্ধের হুমকি আমাদের ঘিরে থাকে। তো সেখানে প্রস্তুতি না নিয়ে থাকা এটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে কি জানালেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস, শুনুন,,
পাশাপাশি তিনি এও বলেন, যুদ্ধ একটি ব্যয়বহুল ব্যাপার, আমাদের অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় আছে। এমনিতেই বাংলাদেশ মজবুত অর্থনীতির দেশ হয়ে গড়ে উঠতে পারেনি। তার মধ্যে বিগত সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে যা ছিল তাও লুটপাট হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের সামগ্রিক স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে হবে। শান্তির দিকে হাত বাড়িয়ে রাখতে হবে সবসময়। কিন্তু প্রস্তুতিও থাকবে জোর কদমে।’
অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে সন্ত্রাসবাদে যখন পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশের নামও উঠে এসেছে ভারতের অভ্যন্তরে। তখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের যে কৌশল গুলি চলছে একই কৌশল বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও নিতে উদ্যত হবে ভারত সেই আশঙ্কা থেকে এর যুদ্ধের প্রস্তুতি বাংলাদেশের, অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
অন্যদিকে, ভারতে সন্ত্রাসী হামলার পর দেখা গিয়েছিলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্ত্রাসবাদ দমনে পাশে থাকার বার্তা দিতে, কিন্তু যখন ভারত পাক যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তখন উল্টো পথে হাটলো আমেরিকা। এই যুদ্ধ রুখতে তাৎপর্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য, ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকাতে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি, ওয়াশিংটনে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শিগগিরই ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলবেন। একই সাথে তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকেও আলোচনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রদফতরের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা সব পক্ষকে দায়িত্বশীল সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করছি। বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।’
দেখা যাচ্ছে, ভারত পাকিস্তান, দুই দেশের সম্পর্ক কাশ্মীর হামলার পর দ্রুত অবনতি ঘটেছে। ভারত সন্ত্রাসী হামলা হিসাবে অভিহিত করে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে এবং হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ভারতের এই অভিযোগ অস্বীকার করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভারত সামরিক পদক্ষেপ নিলে তারা সেটির জবাব দেবে। আর বিশ্বে এই হিংসাত্মক যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে সচেষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।












Discussion about this post