যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে ভারতের। বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্দেশিকা পৌঁছে গেল বলে খবর। বুধবার অর্থাৎ ৭ই মে মক ড্রিল ঘোষণা কেন্দ্রীয় সরকারের। বুধবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মোট ২৪৪টি জেলায় এই ‘মক ড্রিল’-এর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই নির্দেশিকায় কি রয়েছে? কোন কোন রাজ্যকে বলা হয়েছে? কেন হঠাৎ এই নির্দেশিকা? যুদ্ধের প্রস্তুতি কেন বলা হচ্ছে? তবে কি যুদ্ধের সময় ঘনিয়ে এল?
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। কারণ এই জঙ্গি হামলায় ভারতের নিশানায় সরাসরি পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করেছে নয়া দিল্লি। অন্যদিকে ভারতের যুদ্ধের প্রস্তুতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলেছে নৌ মহড়া। এইবার সামনে এল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। বর্ডার সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি রাজ্যকে বলা হয়েছে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে। পাকিস্তান যদি কোনওভাবে এয়ার স্ট্রাইক করে, তবে কি কি করণীয়। সম্প্রতি পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে সেনা ছাউনিতে দেখা গিয়েছে, মকড্রিল করতে। এইবার সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার কথা বলা হচ্ছে। এয়ার স্ট্রাইক হলে সাইরেন বাজলে কোথায় যেতে হবে? কোথায় আশ্রয় নেবে সাধারণ মানুষ? কাউকে পণবন্দি করা হলে, তাকে সেখান থেকে কিভাবে বের করে আনা হবে? ব্ল্যাক আউটের সময় কি করবেন সাধারণ নাগরিক? এই বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, ৭ তারিখ মকড্রিল হবে। অর্থাৎ বুধবার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে সারা দেশে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিক মহড়া হতে চলেছে। জানা যাচ্ছে, এই ধরণের প্রশিক্ষণ 63 বছর পর হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি কারগিল যুদ্ধের আগেও এমন নির্দেশ দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। মনে করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র এবং দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়া যাচাই করে নিতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
এই মকড্রিলে যুদ্ধকালীন সময়ে নাগরিকদের কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হয়? সব রাজ্যকেই এই ব্যাপারে সোমবার পাঠানো নির্দেশিকায় কি করণীয় জানিয়েছে, দিল্লির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সীমান্ত লাগোয়া রাজ্যগুলিয়ে মহড়া পরিচালনার মূল দায়িত্ব অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের।
সম্প্রতি, কিছুদিন আগেই আরব সাগরে যুদ্ধের মহড়া দিয়েছে ভারতীয় নৌ সেনা। একাধিক রনতরী আরব সাগরে মহড়া দেয়। তার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র গুলি কতটা সক্ষম, প্রত্যাঘাত করতে কতটা শক্তিশালী সেটি দেখা হয়। অনেকেই বলছেন, ভারতের প্রস্তুতি একেবারে তুঙ্গে। এবার যে ভারত কড়া প্রত্যাঘাত হানবে, এই মহড়া দিয়ে তারই বোঝানোর চেষ্টা চলছে। জানা যাচ্ছে, এই মহড়াতে যে সমস্ত অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ব্রাহ্মমস। মাঝ সমুদ্র থেকে এটি ছোড়া হয়েছিল। খবর রয়েছে, পাকিস্তান ভারতের এই মহড়া তে ভয় পেয়েছে। কার্যত তারা অসন্তুষ্ট। জানা যাচ্ছে, নৌ মহড়াতে অংশ নিয়েছে INS কচি, INS বিশাখাপত্তনম, INS কলকাতার মতো যুদ্ধ জাহাজ। এমনকি INS বিক্রমাদিত্য এই মহড়াতে যোগ দেয়। তারা কতটা শক্তিশালী এবং শত্রু দেশকে প্রতিহত করার জন্য কতটা সক্ষম, সেটাই এই মহড়াতে ধরা পড়ে। এইবার মক ড্রিলের ঘোষণা। এখন দেখার, ভারতের এই প্রস্তুতি দেখে কি করে পাকিস্তান।












Discussion about this post