ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে বিশ্ব এখন দুটি ভাগে বিভক্ত, যুদ্ধের প্রস্তুতিতে যেমন ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মহা শক্তিধর দেশ রাশিয়া ও আমেরিকা তেমনি পাকিস্তানের পক্ষে যে সমস্ত দেশগুলি এসে দাঁড়িয়েছে তা ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কারণ এবার তুর্কি সরকার একটি তুর্কি যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের করাচি বন্দরে পাঠিয়েছে। এই ঘটনার পর ভারতীয় কূটনীতিকদের কাছে স্পষ্ট কারা ভারতের প্রকৃত শুভাকাঙ্খী।
উল্লেখ্য, যে তুরস্ক এখন পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্থানকে যুদ্ধ বিমান পাঠাচ্ছে সেই তুরস্কতেই যখন ভূমিকম্প হয়েছিল কোন ভারত উদারতার সঙ্গে অপারেশন দোস্ত চালু করেছিল। অর্থাৎ সেই ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক পাকিস্তানকে যুদ্ধে সহায়তা, এবং যুদ্ধবিমান দিয়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে তুরস্ক নিজেকে ভারতের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করল। এবার শুধু পাকিস্তানের করাচিতে যুদ্ধবিমান পাঠানোই নয় বেশ কিছুদিন আগে সি১৩০ এয়ারক্রাফট পাকিস্তানি এসে পৌঁছেছিল যার মধ্যে একাধিক মিসাইল এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম ছিল অর্থাৎ দিনের পর দিন পাকিস্তানকে সামরিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদানে সহায়তা করে গিয়েছে তুরস্ক সরকার।
সূত্র বলছে কিছুদিন আগেই চাপের মুখে পড়ে তুরস্ক সরকারের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছিল, এই মুহূর্তে তুরস্কের তরফ থেকে পাকিস্তানকে কোনরকম সামরিক সহায়তা করা হবে না। কিন্তু বাস্তবে হল ঠিক তার উল্টো। অর্থাৎ মুখে যতই পাকিস্তানকে সহায়তা না করার বার্তা দিক তুরস্ক আদতে তারাই পাকিস্তানকে প্রতিনিয়ত যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পাশে থাকার বার্তা দিয়ে চলেছে। তুরস্ক সরকারের এই দ্বিচারিতা প্রকাশ্যে সেথায় যখন আবারো তুর্কি বিমান বাহিনীর C-130 বিমান শহরে অবতরণের কয়েকদিন পরেই একটি তুর্কি যুদ্ধ জাহাজ TCG পাকিস্তানের করাচি বন্দরে এসে পৌছায়। তুর্কি জাহাজটি ৭ মে পর্যন্ত করাচিতে নোঙর করে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে। সম্প্রতি দুই দেশ একটি যৌথ মহড়া করেছে, যেখানে উভয় পক্ষের বিশেষ বাহিনী আন্তঃকার্যক্ষমতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে যৌথ মহড়া পরিচালনা করেছে।
২০২২ সালে, পাকিস্তান চারটি করভেট সহ-উৎপাদনের জন্য তুরস্কের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির অধীনে, দুটি জাহাজ ইস্তাম্বুলে এবং অন্য দুটি করাচি শিপইয়ার্ডে নির্মিত হবে।
করাচিতে পৌঁছানোর আগে, TCG তার আঞ্চলিক মোতায়েনের অংশ হিসাবে ওমান এবং মালয়েশিয়া সফর করে। তুর্কি কর্মকর্তারা বজায় রেখেছেন যে মোতায়েনটি নিয়মিত এবং বৃহত্তর সামুদ্রিক যোগাযোগের অংশ।
উল্লেখ্য তুরস্কের টিসিজি যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করার বিষয়ে, পাকিস্তান নৌবাহিনী জানিয়েছে যে এই বন্দর আহ্বানের উদ্দেশ্য হল দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদার করা। সরকারী সংস্করণ অনুসারে, এই সফরের লক্ষ্য দুই নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা। তুর্কি কর্তৃপক্ষও এই সফরকে শুভেচ্ছার ইঙ্গিত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই জাহাজটিতে উন্নত রাডার সিস্টেম, একটি ৭৬ মিমি নৌ বন্দুক, জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং টর্পেডো লঞ্চার রয়েছে। এতে সামুদ্রিক বিমান চলাচলে সহায়তা করার জন্য একটি হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাড এবং হ্যাঙ্গারও রয়েছে। কর্ভেটটি খোলা সমুদ্রে কাজ করতে পারে এবং বর্ধিত আঞ্চলিক মিশনের জন্য উপযুক্ত পরিসরও রয়েছে TCG এর।
অর্থাৎ একাত্তরের যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে যেভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিল ঠিক একইভাবে তুরস্কের বিপদের দিনেও অপারেশন দোস্ত চালু করে তুরস্ককে সহায়তা প্রদান করেছিল ভারত সরকার। কিন্তুভারত-পাক যুদ্ধের আবহে ঠিক বাংলাদেশ যেমন ভারতের বিপক্ষে গিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে পাকিস্তানের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে ভারত আক্রমণের সুর চরিয়েছে, ঠিক একইভাবে তুরস্ক দেশের বিপদের দিনের বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা বজায় না রেখে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত সে দেশকে যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র সামরিক সরঞ্জাম প্রদানে সহায়তা করতে শুরু করেছে। এখন দেখার ভারতের অবদান ভুলে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে তুরস্ক নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে সফল হয় কিনা।












Discussion about this post