গোটা দেশে মকড্রিলের নির্দেশ দিয়ে মধ্যরাতেই সুপরিকল্পিতভাবে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে দিল ভারত সরকার। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিরা ভারতীয় হিন্দু নারীর সিঁথি থেকে সিঁদুর মুছে দিয়েছিল চিরতরে। এবার মা,বোনেদের সিঁথি থেকে সিঁদুর মুছে দেওয়ার বদলা নিতেই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর।’
পহেলগাঁও এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় ভয়ংকর প্রত্যাঘাত করলো ভারত। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে ভারতীয় সেনার এই অ্যাকশন।পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর জঙ্গিদের গোপন ডেড়া গুলিকে চিহ্নিত করে, গুঁড়িয়ে ধুলিস্যাৎ করে ভারতীয় বায়ু সেনার এয়ার স্ট্রাইক এর মাধ্যমে । অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাক জঙ্গির ৯টি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা।
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন ভ্যালিতে অতর্কিতে হানা দিয়ে ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে নৃশংসভাবে খুন করে পাকিস্তানি জঙ্গিরা। ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ফুঁসে উঠেছিল গোটা দেশবাসী। পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার দাবি উঠেছিল। দেশবাসীর দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছিলেন , ‘পহেলগাঁওয়ের হামলাকারীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। জঙ্গি ও তাদের মদতদাতাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে তারা কল্পনাও করতে পারবে না।’
এছাড়াও পহেলেগাওয়ের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে বিভিন্ন সময় পাকিস্তানকে ওর সন্ত্রাসবাদকে একের পর এক হুশিয়ারিও দিতে দেখা গিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।
কাশ্মীরের পর্যটকের জঙ্গি হামলার পরেই জঙ্গিদের ইন্ধনদাতা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে মোদি সরকার। সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার পাশাপাশি পাকিস্তানি পণ্য আমদানি-রফতানির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আটারি সীমান্ত। ভারতীয় বন্দরে পাকিস্তানি জাহাজের প্রবেশের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চিঠি লেন-দেনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যদিও পহেলগাঁও কাণ্ডের ১৫ দিন কেটে যাওয়া সত্বেও ভারতীয় সেনা প্রত্যাঘাতের পথে না হাঁটায় সাধারণ মানুষের মনে খানিকটা অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। তবে এবার ভারত সরকার এবং সেনাবাহিনীর তৎপরতায় এই অপারেশন সিদুর যেন সমস্ত অসন্তোষ অভিযোগ কে এক নিমিষে প্রশমিত করে দিল।
উল্লেখ্য, যখন ভারত সরকারের নির্দেশমতো সকল দেশবাসী মক ড্রিল নিয়ে নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখার চিন্তায় আচ্ছন্ন। অর্থাৎ বলা যায়, সারা ভারতবাসী যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ঠিক সেই সময় পাকিস্তানের বুকে স্ট্রাইক করে পহলগাঁও হামলার বদলা নিল ভারতীয় সেনা। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার ভোর রাতের মধ্যেই পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে ৯ জঙ্গি ঘাঁটি মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ওই দুঃসাহসিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’।
যে জঙ্গি ঘাটে গুলি ধ্বংস করেছে ভারতীয় সেনা তার মধ্যে বাহাওয়ালপুরের ঘাঁটিতে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সইদ উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় সেনার তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে যেসব জায়গা থেকে জঙ্গি হামলার চক্রান্ত চলছিল, সেই ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে নিশানা করা হয়নি। শুধুমাত্র জঙ্গি খাঁটিগুলি যেমন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জয়েশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। নিখুঁত পরিকল্পনায় সন্ত্রাসবাদ দমনে ভয়ংকর রুপ ধারণ করল ভারতীয় সেনা।












Discussion about this post