চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এবার এক গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস হওয়ার পর জানা গেল সেই মোহাম্মদ এজাজ একজন শীর্ষ জঙ্গি নেতা। যিনি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তেহরীর পঞ্চম পদস্থ শীর্ষ নেতা। যিনি একবার নয়, একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের জেরে। শুক্রবার প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এক ফেসবুক পোস্টে মোহাম্মদ এজাজে পর্দাফাঁস করেছেন। যা নিয়ে বাংলাদেশে হইচই শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই তথ্য ফাঁস হওয়ায় বাংলাদেশের বর্তমান তদারকি সরকার যে জঙ্গি ও জেহাদিদের খোলাখুলি সরকারি পদে নিয়ে আসছেন তা প্রমান হয়ে গেল। কারণ, মোহাম্মদ এজাজকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিলেন বাংলাদেশের উপদেষ্টা মণ্ডলির অন্যতম সদস্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
হিজবুত তেহরী বাংলাদেশে একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। ২০০৯ সালে তৎতালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ বা স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুত তেহরী দেশজুড়ে উগ্রবাদী কর্যক্রম, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটানোর চেষ্টা করে আসছে। মোহম্মদ এজাজ যে ওই সংগঠনের নেতা সেটাও সেই সময়কার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেথ রয়েছে। ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, বর্তমান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহম্মদ এজাজ ছাত্রজীবনে ইসসামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০২ সাল থেকে তিনি হিজবুত তেহরীর সঙ্গে যুক্ত হন এবং ২০১৪ সালে ওই নিষিদ্ধ সংগঠনের পঞ্চম পদস্থ নেতা হিসেবে উঠে আসেন। ২০১৪ সালের পর অনন্ত দুই বার গ্রেফতার হয়েছিলেন মোহম্মদ এজাজ। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ১০ নভেম্বর সমস্ত মামলা থেকে খালাস পান মোহম্মদ এজাজ। এর পরপরই তাঁকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মুখ্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, জুন-জুলাইয়ের গণ বিপ্লবের সঙ্গে যে হিজবুত তেহরী ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল তা স্বীকার করে নিয়েছিল সেই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বই। এরপরই দেখা গেল, জুন-জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যে সমস্ত সংগঠন এবং ব্যক্তিত্ব সম্পৃক্ত ছিল তাঁদের একে একে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যার মধ্যে বিভিন্ন জঙ্গি নেতাও ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলি হয় খারিজ না হয় স্থগিত করা হয়েছিল। ভারত সরকারও এই বিষয়ে ঢাকাকে বারেবারে সতর্ক করেছিল। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। এবার আলজাজিরা টিভির তদন্তমূলক সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেসবুক পোস্টে নতুন করে হইচই শুরু হয়েছে। কারণ, তিনি জানিয়েছেন, কোনও রকম গোয়েন্দা ছাড়পত্র ছাড়াই মোহাম্মদ এজাজকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের লেটারহেডে চিঠি দিয়ে মোহম্মদ এজাজকে ওই পদে নিয়োগের সুপারিশ করেন। এখন জানা যাচ্ছে তাঁকে ওই পদে নিয়োগের ব্যাপারে হাত ছিল আরেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের। তাঁর পরামর্শেই সজীব ভূঁইয়া এজাজকে ওই পদে বসিয়েছিলেন। ফলে শিকড়ের জাল অনেক গভীরে রয়েছে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
তাঁরা মনে দাবি করছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলি জড়িত থাকার প্রমান এবার সামনে আসছে। যা আগামীদিনে বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সুখকর হবে না। বিশেষ করে যখন ভারত জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছে অপারেশন সিঁদুর নাম দিয়ে। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে চালু থাকা একাধিক জঙ্গি কার্যালয় এবং সন্ত্রাসী আঁতুড়ঘর গুঁড়িয়ে এসেছে ভারতীয় সেনা। যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধই বেঁধে গিয়েছিল প্রায়। এমনকি ভারত পাকিস্তানের ১১টি সেনা ও বিমানঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেগুলি পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস করেছে। ফলে বাংলাদেশের রাজধানী শহরের মেয়র পদমর্যাদার ব্যক্তি যখন জঙ্গি নেতা হিসেবে পরিচয় সামনে আসে তখন এটা ভারতের প্র্মান করতে অসুবিধা হবে না যে বাংলাদেশও সন্ত্রাসবাদকে সাহায্য করছে। যেখানে তদারকি সরকারের একাধিক উপদেষ্টার নাম সামনে আসছে এক জঙ্গি নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর জন্য। সেখানে ভারত যদি আগামীদিনে বাংলাদেশেও অপারেশন সিঁদুর চালু করে, তখন কিছু বলার থাকবে না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। হাতে আর বেশি দিন নেই। পদ্মাপারের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে কৌতহুলের পারদ ক্রমশই চড়তে...
Read more












Discussion about this post