অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের শুরু থেকেই ভারত বিরোধিতার হুশিয়ারি শোনা গিয়েছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। শুরুতে ভারত কিছুটা সমীহ করে চললেও পরবর্তীতে করা হাতে অ্যাকশন নিতে শুরু করেছে ভারত। বিশেষত পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের ভারতের ওপর হামলা সেই ঘটনাতে যখন বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদীদের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তখন থেকে ভারত বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক দিক থেকে চাপে ফেলেছে। প্রথমেই বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল। আর এবার স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ভারত।
বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পোশাকসহ প্রায় সাত ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত সরকার।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের এক মাসের মাথায় ভারতের এই পাল্টা নিষেধাজ্ঞা এল, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার কথা বলেছে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য,ভারতের এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং প্লাস্টিক সামগ্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্য শুধু নির্দিষ্ট সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে অথবা কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে স্থলপথে প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন বাংলাদেশি তৈরি পোশাক এখন শুধু কলকাতা ও নাওয়াশেবা সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি করা যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে ভারত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় । যার প্রভাব পড়বে আনুমানিক ৭৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্যের ওপর। এটি মোট দ্বিপাক্ষিক আমদানির প্রায় ৪২ শতাংশ। এমন তথ্য জানিয়েছে গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বা জিটিআরআই।
জিটিআরআই জানিয়েছে, ভারতের এই পদক্ষেপ এককভাবে নেওয়া নয় বরং বাংলাদেশ কর্তৃক ভারতীয় রপ্তানির ওপর আরোপিত নানা বাধা এবং চীনের প্রতি ঢাকার কূটনৈতিক ঝোঁকের প্রতিক্রিয়ায় এসেছে।
সূত্রের খবর, স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে ভারতে রপ্তানির উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশি পণ্যের যানবাহন। যশোরের বেনাপোল বন্দরে ৩৬ ট্রাক তৈরি পোশাক ও লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে ১৭ ট্রাক খাদ্যপণ্য আটকা পড়েছে।












Discussion about this post