রাতে হঠাৎই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৎপরতা! শুরু অভিযান। সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেড এর তরফে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হলো। সন্ত্রাসীদের আটক করে তারা প্রাথমিক ধাপেই সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে। ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় এই অভিযানের খবর ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে। পাশাপাশি, বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন সেনাবাহিনীর এই অভিযান? সম্প্রতি সেনাপ্রধানের ভাষণের পরই কি আরও তৎপর সেনাবাহিনী?
রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। এই অভিযানে গত ২ দিনে সন্ত্রাসী সংগঠনের বহু সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর,গত ২০ মে পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত কিশোর কিশোর গ্যাংয়ের অন্য গ্রুপের মোট ৫৭ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সম্প্রতি,এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্পূর্ণ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ পদাতিক ব্রিগেড।
এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কিছুদিন ধরে মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়ে যায়। বিশেষ করে গত ১৫ মে গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের একই পরিবারের ৬ সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পাটালি গ্রুপের সদস্যরা। এ নৃশংস হামলার পরই মোহাম্মদপুর এলাকায় যৌথ বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে এবং অভিযানের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের ধরতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারিদের মধ্যে রয়েছে- পেশাদার মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী, আসামি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অপরাধীরাও।
আরও জানানো হয়, তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে সেনাবাহিনীর এই তৎপরতা অত্যন্ত তৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠলো সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান ওয়াকারের ভাষণ কে কেন্দ্র করে।আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বুধবার ঢাকা সেনা সদর দপ্তরে সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে তিনি এ কথা জানান।
সেনাপ্রধানের স্পষ্ট বার্তা , নির্বাচনের বিষয়ে তার অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের অধিকার একটি নির্বাচিত সরকারের।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে নির্বাচন ছাড়াও করিডর, বন্দর, দেশের সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে সেনাপ্রধানের বক্তব্যে।
সেনাপ্রধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডর প্রসঙ্গে বলেন, রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডর বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং তা বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হতে হবে। এখানে জাতীয় স্বার্থ দেখতে হবে। যা করার রাজনৈতিক ঐকমত্য মাধ্যমেই সেটা করতে হবে।
সংস্কার নিয়ে সেনাবাহিনীর পরামর্শ সরকার এই আমলে নেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার দেখা যায়নি বলে মন্তব্যও করেন ওয়াকার।
অর্থাৎ দেশকে ঐক্য ও সংস্কার পালনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সেনাবাহিনীর তৎপরতা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসা আরও কিছুটা দৃঢ় করলো বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।












Discussion about this post