করিডর ইস্যুতে টানটান উত্তেজনা পদ্মা পাড়ে। সে দেশের বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তে যদি রাখাইন প্রদেশে করিডোর দেওয়া হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরে একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে, যে এই করিডোর কোন সামরিক ও যুদ্ধের অস্ত্র সরবরাহের জন্য নয়, নিতান্তই একটি মানবিক উদ্দেশ্যে এই করিডোর। আর উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ যখন কোন ত্রান পাঠাবে তখন বাংলাদেশের সেনা সেগুলিকে যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারবেন বলেও জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কিন্তু এখন প্রশ্ন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এই বক্তব্যের তাৎপর্য কি?
বাংলাদেশের যখন সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে সরকারের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে, তখন করিডোর ইস্যুতে বাংলাদেশেরজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এই ব্যাখ্যার প্রেক্ষাপট বোঝাতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি এই করিডোর ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আর ওই প্রতিবাদের সময় নিশ্চুপ থেকেছে দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আরে নিশ্চুপ থেকে তোরা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে একটি সিদ্ধান্তে আসা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই কডিডোর নিয়ে। অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারের পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সামনে জাতিসংঘ। তাদের উদ্দেশ্য অবস্থান নিতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বিপক্ষে থাকবে চীন ও সেইসঙ্গে ভারত। কারণ চীন ও ভারত কখনোই চাইবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে অবস্থান নিক। কিন্তু মানবিক করিডরের নামে এই অবস্থানকে নিশ্চিত করতে চেয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু ব্যক্তিত্ব।
আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে দেশের এত বড় একটি স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা করা হলো না তাদের সমর্থন নেওয়া হলো না এমনকি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও এই বিষয়টি নিয়ে কোন আলোচনা করেনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। আর এটা নিয়ে সরাসরি সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, শুধু করিডোর নয়, বন্দর গুলিতেও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে কোনো সর্বদল বা স্থায়ী নির্বাচিত সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিরা এখন এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন নিজেদের ক্ষমতাকে ধরে রাখতে। যাতে বিদেশী ক্ষমতা গুলি তাদের লাভের আশায় অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে সহায়তা প্রদান করে। দেশের অভ্যন্তরে এখন এমনই পরিস্থিতি যেখানে স্থায়ী সরকার স্থাপনের জন্য দেশে যে নির্বাচন প্রয়োজন সে নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট তো কোন মন্তব্য করতে চাইছে না অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
আর এই অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা যায় দেশের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী বারংবার জানিয়েছেন দীর্ঘ ৮-৯ মাসে সেনাবাহিনী বহুবার প্রচেষ্টা চালিয়েছে দেশকে শান্তি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে দিতে।
অপর একটি সূত্র জানায়, অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সেনাপ্রধান আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করেন। সেনাপ্রধান বলেন, এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক স্থায়ী সরকারের দেশ পরিচালনা করার। সব রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিক সরকারের দ্বারা সমাধান করতে হবে। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন কিন্ত তারা সরকার পরিচালনার বিষয়ে অনভিজ্ঞ বলে দেশ পরিচালনায় রাজনৈতিক সরকারের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন ওয়াকার-উজ-জামান। অর্থাৎ নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধানের অবস্থান যে একই আছে তা স্পষ্ট বুঝিয়েছেন তার বক্তব্যের মাধ্যমে। আর দেশের অভ্যন্তরে সেনাপ্রধান যখন নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা এখনো জারি রেখেছে তখন পরিস্থিতি যত অস্থির করে তুলবে অন্তর্বর্তী সরকার ততই যেন দিন ফুরিয়ে আসবে মহম্মদ ইউনুসের, দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের।












Discussion about this post