মুখোমুখি ইউনুস- ওয়াকার! বাংলাদেশ জুড়ে এখন প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধান সংঘাত চর্চার শিরোনামে। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তাদের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ জনগণের এখন একমাত্র ভরসা বা আস্থা রয়েছে দেশের সেনাবাহিনীর উপর। সেনাপ্রধান কি পারবেন দেশের সমস্ত প্রতিকূলতা কে দূরে সরিয়ে দেশকে একটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার দেশে রূপান্তরিত করতে? এই বৈঠকের পর থেকে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
প্রত্যাশা রয়েছে সাধারণ নাগরিকের। কিন্তু এই প্রত্যাশা ও পূরণের মধ্যে শেষমেষ তফাৎ থেকে যাবে কিনা সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। বাংলাদেশে যখন একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে তখন বারে বারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে সেনাবাহিনী। সম্প্রতি বাংলাদেশের মানবিক প্রদানের প্রসঙ্গেও উঠে এসেছে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশ্ন। আবার ধীরে ধীরে যখন দেশজুড়ে মব কালচার সরিয়ে পড়ছে তখন, এই মত কালচার নিয়ে সেনাপ্রধানের ঐতিহাসিক বার্তার কথা ও স্মরণে আসছে। তিনি সেই সময় বলেছিলেন দেশজুড়ে মব কালচার বরদাস্ত হবেনা, এর ফটো দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ক্ষুন্ন হতে পারে। সন্ত্রাসীরা সুযোগ পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এই ধরনের ইঙ্গিত পূর্ন বার্তা দিতে আর কাউকেই দেখা যায় না।
কিন্তু এবার বুধবার ঢাকায় থাকা সেনা আধিকারিকদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে এবার সময়সীমা বেঁধে দিতে চান বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জ়ামান। তার স্পষ্টবার্তা, কোনও ভাবেই সেনাশাসন চান না দেশে, সেনাপ্রধান চান ‘ফ্রি–ফেয়ার–ইনক্লুসিভ’ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার দেশের দায়িত্ব নিক, এই কথা অতীতে বারংবার বলেছেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান।
অর্থাৎ সেনাপ্রধান চাইছেন চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনেরপর্ব মিটিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হোক এবং সেনারা ব্যারাকে ফিরুক। সূত্রের খবর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সেনাকর্তাদের অনুষ্ঠানে বুধবার সেনাপ্রধান ওয়াকার বলেন, ‘করিডর হোক বা বন্দর অথবা সংস্কার এই সব বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র নির্বাচিত সরকারের। দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সেই অধিকার নেই।’ পাশাপাশি এই সরকার সম্বন্ধে সেনাপ্রধান চ্যানেল ‘বিদেশি নাগরিকেরা এই কার্যকলাপের মধ্যে রয়েছে এবং ওই বিরোধী সংগঠন গুলি দেশবিরোধী কাজকর্ম শুরু করেছে। আমি থাকতে তাদের কার্যসিদ্ধি করতে দেবো না!’
সেনাপ্রধান ওয়াকার ও প্রধান উপদেষ্টার সম্পর্কটি প্রথম থেকেই নেতিবাচক দিকে এগিয়েছে। ইউনূস ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তার ছাত্রনেতাদের দিয়ে সেনাপ্রধানকে সরানোর দাবি তুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে উদ্বত করেছে । গত দশ মাসে একের পর এক পরিকল্পনায় সেনাপ্রধান কে তার পথ থেকে সরিয়ে ফেলার প্রচেষ্টাও চালিয়েছেন মোহাম্মদ ইউনুস। লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসানকে বাড়তি ক্ষমতা দিয়ে সেনাপ্রধানের দায়িত্বে হস্তক্ষেপ করার পরিকল্পনাও শুরু করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সে প্রতিটি পরিকল্পনাকেই প্রতিহত করতে তৎপর ছিল বাংলাদেশের তিন বাহিনী। সেই জায়গা থেকে আজও সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা সেনাপ্রধান।












Discussion about this post