এইবার চাপে পড়লেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এছাড়াও জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। সেনাকর্তা এবং সেনাবাহিনীকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বুধবার সেনা কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে আলোচনায় উত্থাপন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। যার দিকে তাকিয়ে ছিল সমগ্র বাংলাদেশ।
ধারণা করা হয়েছিল, সেরা সদরে বৈঠক ডেকে সেনাপ্রধান এমন কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, যেটা বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি একেবারে ঘুরে যাবে। তবে তেমন কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন জেনারেল ওয়াকার। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি চান, চলতি বছরের ৩১ সে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করাতে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক্তিয়ারের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানিয়ে দেন, নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরুক। যদিও এই প্রথম নয়। ডিসেম্বরে নির্বাচন নিয়ে এর আগেও একই কথা শোনা গিয়েছিল তার গলায়।
করিডোর প্রসঙ্গে তার স্পষ্ট ধারণা রাখেন এদিনের বৈঠকে। সূত্র মারফত খবর, ওই বৈঠকে তিনি জানান, করিডোর হোক বা বন্দর বা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ… এই সমস্ত নিয়ে একমাত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নির্বাচিত সরকারের। অর্থাৎ রাখাইন প্রদেশে আরাকান আর্মিদের মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফে যে বাংলাদেশকে মানবিক করিডরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটা মানেননি সেনাপ্রধান। আসলে রাষ্ট্রসংঘকে সামনে রেখে আমেরিকা চাইছে আরাকানদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে। এর জন্য মার্কিন বেশ তৈরি করতে সচেষ্ট মার্কিন প্রশাসন। প্রথম থেকেই এই প্রস্তাবে রাজি হননি সেনাপ্রধান। সেটা আরো একবার স্পষ্ট হল। এছাড়াও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, করিডোর, বন্দর বা সেন্ট মার্টিন নিয়ে কোনওরকম সিদ্ধান্ত নিতে পারে না নির্বাচিত সরকার ছাড়া। সূত্র মারফত সেনানিবাসে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের পর চাপে পড়েছেন মহম্মদ ইউনূস, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, শেষমেশ কি হয়।












Discussion about this post