২১শে মে বুধবার সামনে এসেছে সেনাপ্রধানের অফিসার্স অ্যাড্রেস। সেখানে করিডোর বন্দর সংস্কার ও দেশে মব ভায়োলেন্স নিয়ে তার বক্তৃতার মাধ্যমে নিজের এবং সেনাবাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট করেন জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এরপর থেকে রাজনীতির ময়দানে দেখা গিয়েছে নানান তৎপরতা। চলছে আলোচনা সমালোচনা বিভিন্ন মহলে।
শুরুতেই বাংলাদেশের শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে রায় যায় বিএনপি নেতা ইরশাদ হোসেনের পক্ষে। ঋণ খারিজ করে দিলে তার আইনজীবীরা জানান এরপর মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে আর কোন বাধা নেই ইরশাদ হোসানের। আদালতের এই রায় এ আনন্দে উৎসবে মেতে ওঠে ইরশাদের সমর্থকরা। কিন্তু এ সমর্থকরা তাদের অবস্থান তুলে নেওয়ার আগে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এই দুই আহবায়কের পদত্যাগের দাবি জানায় তারা।
এই ঘটনার পর সমাজ মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলাম। স্যারজিস সমাজ মাধ্যমের পোস্টে জানায়, মব তৈরি করে যদি হাইকোর্টের রায় নেওয়া যায়, তবেই হাইকোর্টের দরকার কি?
উল্লেখ্য, এই ঘটনার ড্রেস কাটতে না কাটতেই সংবাদ সম্মেলন ডাকে বিএনপি। বহুদিন পর এই সম্মেলনে দলের হয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য । সেখানেই ডিসেম্বরে নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়। নাহলে সরকারের ওপর সমর্থন রাখা কঠিন হবে বলে জানায় বিএনপি। অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এই দাবিতে দুই সমন্বয়কের পদত্যাগের দাবি জানান বিএনপি’র নেতৃত্ব।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি বলেন, “বিএএল, নর্থ ও দিল্লি জোটভুক্ত হয়ে যে কুমির ডেকে আনছেন তা আপনাদেরকেই খাবে।”
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নর্থ বা উত্তর বলতে সাধারণত ক্যান্টনমেন্ট বোঝানো হয়। ‘বিএএল’ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংক্ষিপ্ত রুপ।
তিনি আরও লেখেন, আমাদের না আছে মরার ভয় না আছে হারাবার কিছু। একমাত্র আফসোস, গণতান্ত্রিক রুপান্তর আর এদেশের মানুষের ভাগ্য কোনটাই ইতিবাচক পথে যাবে না আরকি। স্বপ্ন দেখে স্বপ্নভঙ্গের কষ্টই বোধহয় এদেশের ভাগ্য।”
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে খুব দ্রুততার সাথে একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। এই ঘটনাপ্রবাহে সর্বশেষ সংযোজন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগের কথা ভাবছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে নাহিদ ইসলাম জানায়, প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে পারেন এমন খবর পেয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি।
এরপরই একইদিনের সন্ধ্যায় রাজপথে বিক্ষোভ করে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের বিতর্কিত উপদেষ্টাদের সরানোর দাবিও তোলে বিএনপি।












Discussion about this post