যেকোনো সময় পদত্যাগ মোহাম্মদ ইউনুসের! বিগত তিনদিন ধরে ক্যান্টনমেন্টে সেনাবাহিনীর বৈঠকে সেনাপ্রধানের যে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষের বার্তা উঠে এসেছে তা নিয়ে শুরুতে খুব বেশি মাথা ঘামায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বৃহস্পতিবার প্রথমার্ধে পরিস্থিতি একই থাকলেও ওইদিনের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে মোহাম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করবেন এই ধরনের আলোচনা শুরু হয়, সরকারের উপদেষ্টা মহলে। কিন্তু হঠাৎ করে মোহাম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করতে চাইছেন কেন? তবে কি সেনাবাহিনীর তরফ থেকে মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে পড়েছে , প্রধান উপদেষ্টা? পদত্যাগের এই জল্পনা কি সত্যি? চর্চা দেশের অন্দরে।
হঠাৎ করে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনূসের মনে হয়েছে যে তিনি আর প্রধান উপদেষ্টা পদে থাকতে পারবেন না, তার কারণ সেনাবাহিনীর অফিসার্স অ্যাড্রেসে যখন তার সরকার ও তার সরকারের উপদেষ্টারা সঠিক পথে চলতে পারছে না বলে দাবি করা হচ্ছে তখন পদত্যাগ করায় শ্রেয়। এমনটাই অভিমত বিশ্লেষকদের। আর হঠাৎ করেই মহম্মদ ইউনুস এর এই চিন্তাধারা থেকে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ও তার উপদেষ্টা মন্ডলীতে জোড় আলোচনা শুরু হয়ে যায় ইউনূসের পদত্যাগের বিষয়টিকে ঘিরে। এরপর ঐদিন সন্ধ্যেবেলায় মোহাম্মদ ইউনূসের ছাত্র নেতাদের চেয়ে রাজনৈতিক দল সেই রাজনৈতিক দলের করা তার বাসভবনে পৌঁছে যান এবং একটি বৈঠক করেন, এমনকি ওই বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন। এরপর নাহিদ ইসলাম ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মহম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করতে চান। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার এই পদত্যাগের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে বোঝানোর মরিয়া চেষ্টা চালান ছাত্রনেতা ও সমন্বয়করা। কিন্তু মোহাম্মদ ইউনুস তিনি তার সিদ্ধান্তে অবিচল বলেই জানিয়েছেন। পাশাপাশি এখনো চলছে জোর তোড়জোড় প্রধানউপদেষ্টাকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সবচেয়ে বড় অংশীদার জামায়াতে ইসলামী। জামাতরাই এই মুহূর্তে অন্তর্ভুক্তির সরকারের ক্ষমতার প্রভাবে, দেশে সবথেকে বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি স্থায়ী সরকার গঠন করা হলে কোনভাবেই এই কট্টরপন্থী সংগঠন জামাত ইসলামী দেশে অবাধে অবস্থান নিয়ে থাকতে পারবেনা।
আবার জামাত যদি নির্বাচনে অন্যান্য সংগঠন নিয়ে অংশগ্রহণ করে এবং সেখানে যদি তারা ২০ থেকে ৩০ টি আসন নিয়ে টিকে থাকে। তবে কোনভাবেই তাদের পক্ষে একক কোনো স্থায়ী সরকারের সঙ্গে এঁটে ওঠা সম্ভব হবে না। আর এই সমস্ত আতঙ্ক থেকেই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই জামাতে ইসলামের তরফ থেকে সমাজ মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট সামনে এসেছে। জামাতের আমির শফিকুর রহমানও দিনভর একাধিক সমাজ প্রথমে পোস্ট করেছেন। এবং তিনি এই পরিস্থিতিতে সর্বদলীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে সেই বার্তা তুলে ধরেছে সমাজের মাধ্যমের পোস্টে। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনুসের এই পদত্যাগের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে এখন হুলস্থুলে পড়ে গিয়েছে গোটা বাংলাদেশে। ভিন্ন রাজনৈতিক মহলের তরফ থেকে যেমন মহম্মদ ইউনুসের এই পরিকল্পনাকে নাটক বলে সম্বোধন করা হচ্ছে তেমন কঠোর পন্থী সংগঠনগুলির তরফে উঠে আসছে আতঙ্কের ছবি।












Discussion about this post