সরাসরি কড়া বার্তা সেনাবাহিনীর। সম্প্রতি সরকারি সংস্থার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করলো সেনাবাহিনী । সরকারি সংস্থার তরফে আসন্ন ঈদউজজোহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে সেনাবাহিনী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল । আর এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে সরাসরি আপত্তি জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর।
সম্প্রতি আসন্ন ইদুজ্জোহায় সেনাবাহিনীর অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা। এবার এই বিজ্ঞপ্তি পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করল বাংলাদেশ সেনা। সেখানে শিরোনাম হিসেবে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর মোতায়েন প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর অবস্থান।
এরপরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেনাবাহিনীর অবস্থান – ঢাকা, ২৭ মে ২০২৫ (মঙ্গলবার): সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক তাঁর এক বক্তব্যে জানান যে, আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হবে। সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে— বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের কোন কার্যক্রমের বিষয়ে অবগত নয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হবার পরিকল্পনা নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ও উপযুক্ত সংস্থাসমূহকে দায়িত্ব প্রদান করাই যৌক্তিক বলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মনে করে।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, বর্তমানে তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ও দক্ষ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর উপর ন্যস্ত করাই যৌক্তিক হবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল নগর ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ডিএনসিসি মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘ঢাকা উত্তরে মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম ঠিকাদারকে দিয়ে করানো হচ্ছে। সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে ডিএনসিসি। এখন থেকে সেনাবাহিনী মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবে।’
কিন্তু এটা যে সেনাবাহিনীর কাজ নয় তা বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট করলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের পর এখন চরমপন্থা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে সে দেশের সেনাকে। পাশাপাশি করা জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে তার ক্ষমতাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে তারা। রাজনৈতিক মহলের দাবী, এখন নির্বাচন থেকে দেশের সংস্কার বা সরকারের মতামত প্রতিটি পদক্ষেপে সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্ত থাকবে অবিচল।












Discussion about this post