বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎকার নিয়ে বাংলাদেশে যে চর্চা চলছে, তার রেশ কাটার আগেই জানা গেল প্রধান বিচারপতি দেখা করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে ঠিক কি চলছে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সেটা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতিকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ তড়িঘড়ি দক্ষিণ আফ্রিকা সফর কাঁটছাঁট করে ঢাকায় ফেরেন এবং সরকারি অতিথিশালা যমুনায় গিয়ে দেখা করেন মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে ঠিক কি কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, তা নিয়ে অবশ্য খুব একটা জানা যায়নি। কারণ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি। ফলে কৌতুহল অনেকটাই তীব্র আকার ধারণ করেছিল। তবে এবার সেই কৌতুহল আরও তীব্র হতে চলেছে এই খবরে, যে এবার প্রধান বিচারপতি বঙ্গভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে।
সূত্রের খবর, প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করার পরই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ফলে জল্পনা-কল্পনা অনেকটাই বেড়েছিল বাংলাদেশে। কিন্তু জানা যাচ্ছে, তিনি কয়েকটি আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে তাঁর শপথ নেওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে আলোচনায় সেটা যেমন ছিল, তেমনই আগামীদিনে তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ বৃদ্ধি করতে চাইলে সেটা কিভাবে সম্ভব সেটা নিয়েও নাকি আলোচনা হয়েছিল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি কেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, গত বছর আগস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নিয়েছিল সেটা বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে বলে দেওয়া সূত্রে। কারণ, বাংলাদেশের সংবিধানে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিধান নেই। ওই ১০৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনও কারণে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এবং যে সরকার গঠন হবে তাঁরা শুধুমাত্র দেশের নির্বাহী কাজকর্ম পরিচালনা করতে পারবে। কিন্তু বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশের আইন পরিবর্তন করার জন্য অধ্যাদেশ জারি করে চলেছে, বৈদশিক নীতি প্রণোয়ন করছে, অথবা আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছে। যা মূলত বেআইনি বলেই দাবি করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। একটি অংশ আরও দাবি করছে, বর্তমানে কয়েকজন উপদেষ্টাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। যদি তাঁদের সরিয়ে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ করতে হয়, সেটা কিভাবে করা যাবে, মুহাম্মদ ইউনূস সেটাও সম্ভবত জানতে চেয়েছিলেন প্রধান বিচারপতির কাছে।
জানা যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের পরই প্রধান বিচারপতি বঙ্গভবনে গিয়ে দেখা করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে। এবং দুজনের এই সাক্ষাৎ একান্ত সাক্ষাৎ বলেই জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ, দুজনের সাক্ষাতের সময় অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না। যা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই জল্পনা-কল্পনা আকাশ ছুঁতে শুরু করেছে। কি এমন আলোচনা থাকতে পারে দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির, যে তাঁরা একান্ত সাক্ষাৎ করলেন! তবে কি দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে? নাকি সেনাপ্রধানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মতোবিরোধ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটা নিয়ে যে সেনাশাসনের পরিস্থিতি হতে পারে, এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করলেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি।
বাংলাদেশে এখন হাজারো সংকট। দেশের আইনসভা ভেঙে দেওয়ার ফলে নানান সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যেমন শোনা যাচ্ছে, মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকার দেশের রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দিতে নানা ভাবে চেষ্টা করে চলেছেন। কিন্তু কোনও ভাবে যদি রাষ্ট্রপতি সরে যান বা পদত্যাগ করেন তবে কি হবে? কারণ, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অবর্তমানে দেশের স্পিকার সেই দায়িত্ব নেন। কিন্তু এখন স্পিকার নেই, তাই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরানোর ব্যপারে পাঁচবার ভাবছেন ইউনূসরা। ফলে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ যখন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করলেন, তখন জল্পনা-কল্পনা বাড়বেই।












Discussion about this post