জাপান সফরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। আর সেখানে গিয়ে তার করা একটি মন্তব্যে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সেটা অবশ্যই নির্বাচন। ইউনুস যে ডিসেম্বরে নির্বাচন চান না, সেটা বারবার প্রমাণিত হয়েছিল। তবে এইবার আরও একবার বাংলাদেশের মানুষ বুঝে গেলেন, আসলে মোহম্মদ ইউনূস নির্বাচন নিয়ে কতটা গড়িমসি করছেন। এর সঙ্গে তিনি বলছেন, বাংলাদেশে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল চাইছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হোক। অর্থাৎ বিএনপি কে ইঙ্গিত করছেন মহম্মদ ইউনূস। আসলে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বিচার করছেন তিনি। ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে ? তবে এটা পরিষ্কার, বিএনপিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে তদারকি সরকার।
বৃহস্পতিবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে ইম্পেরিয়াল হোটেলে ৩০তম নিক্কেই ফোরামে ফিউচার অব এশিয়া এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউনুস তোলেন বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গ। প্রশ্ন-উত্তর পর্বে বলেন, দেশের একটি মাত্র রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাইছে। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সুষ্ঠ, অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও যোগ করে বলেন, আমরা দেশের জনগণের ন্যায়বিচার, সমতা, স্বাধীনতা, মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার তিনটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। প্রথমত হল সংস্কার, দ্বিতীয়টি হল যারা অপরাধ করেছে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে , তাদের বিচার
আর তৃতীয়ত নির্বাচন। তারপর তিনি বলেন, ডিসেম্বর থেকে আগামী জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল জুন পর্যন্ত কেন, এই প্রশ্ন তুলছেন। তিনি তারপর স্পষ্ট করে দেন, দেশের সব রাজনৈতিক দল নয়, একটি রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে। অর্থাৎ তিনি যে বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করছেন, সেটা পরিষ্কার। এদিকে জাপান সফরে আগে প্রায় ২২ থেকে ২৩ টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। অর্থাৎ তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, সেখানে এটাই প্রমাণিত হয়, যে বাকি ২১ টি বা ২২ টি দল তার পক্ষে, শুধু একটি দলের তার বিপক্ষে। সেটি বিএনপি। তিনি এই কথা যখন বলছেন তখন বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলছেন, ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব। অন্য এক বিএনপি নেতা বলছেন, সরকার না করলে আমরাই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দেব। এদিকে এনসিপি দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটি দলের কথাই নির্বাচন হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় প্রধান উপদেষ্টার সুরেই কথা বললেন নাহিদ ইসলাম। এক দলের কথাতে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না, এটাই বাস্তবতা। এটাই বলতে চাইছেন ইউনূস এবং তার বাহিনী। এরপর তাহলে বিএনপির কি করণীয়? বিএনপি কে একটি রাজনৈতিক দল বলে শুধু আখ্যা দেওয়া হল। অর্থাৎ বাকি দলগুলি সরকারের পক্ষে রয়েছে, এটাই বোঝাতে চাইছেন ইউনূস। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে এই মুহূর্তে বিএনপি যে সব থেকে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল সেটা প্রায় অস্বীকার করছে সরকার। অন্তত প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য শুনে তাই মনে হচ্ছে। অথচ এই বিএনপি অন্তর্বর্তী কালীন সরকার গঠনের সময় এদের পাশে ছিল। এখনও দেশের বহু মানুষ বিএনপি কে সমর্থন করে। আরো একটি বড় দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম তো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেই। এবার বিএনপিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে এই সরকার। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনুসের সরকার এবং বিএনপি’র সংঘাত প্রায় প্রকাশ্যে চলে এল। অন্যদিকে এরিমাঝে রাশিয়া এবং ভারত থেকে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের তাদীদ দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের বিষয়ে বহির বিশ্ব থেকে প্রতিবাদ আসছে। তবে এগুলি আদতে মহম্মদ ইউনূস নেবেন কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে কি করবে বিএনপি? ইতিমধ্যেই বর্তমান তদারকের সরকার যে সংস্কার ভাবছে, সেই ১৩ টি বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয়ে আংশিক রাজি হয়েছে বিএনপি। এক্ষেত্রেই বা তাদের কি করনীয়? তারা কি তাদের আন্দোলন জোরদার করবে? নাকি এদিকে সরকার একটিমাত্র রাজনৈতিক দল সমর্থন করেনি, বাকি দলগুলি সমর্থন করেছে বলে সবটা পাল্টে ফেলবে? এমনকি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ লড়বে, সেই দিন বোধহয় ঘনিয়ে আসছে। এমন দিনও হয়তো দেখতে হবে বাংলাদেশের মানুষকে। অবশ্য তার উত্তর দেবে একমাত্র সময়।












Discussion about this post