বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। অবস্থা বদলের কোনও উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণের কর্পোরশনের মেয়র ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গ নিয়ে। আপিল বিভাগে ইশরাক হোসেনের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। দু পক্ষের আইনজীবী দু রকম কথা বলছেন। বিএনপির আইনজীবী এবং রিটকারী আইনজীবী আর এক রকম কথা বলছেন। এদিকে আন্দোলন চলছে। ফের কি বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত? আজকের বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে সেই প্রশ্নই তুলছেন অনেকে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে জাপানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। আসলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে? বিএনপি কি পেরে উঠছে নাকি অন্য কৌশল অবলম্বন করবে? এই প্রশ্ন উঠছে।
ইশরাক হোসেনের মেয়র ইস্যুকে কেন্দ্র করে জটিল পরিস্থিতি বাংলাদেশে। বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি হয়েছে। তবে কোনও রায় দেওয়া হয়নি। তবে দুই আইনজীবী দু রকম ব্যাখ্যা দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিএনপির আইনজীবী বলছে, যেহেতু আপিল বিভাগ যেহেতু স্থগিতাদেশ দেয়নি, তাই মেয়র হিসাবে শপথ নিতে আর কোনও বাধা থাকার কথা নয়। তখন রিটকারী আইনজীবী বলছেন, আপিল বিভাগ সব শুনেছে এবং নির্বাচন কমিশনের কথা শুনে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমনকি বলে দেওয়া হয়েছে, ইশরাকের মেয়র হওয়ার আর কোনও সম্ভবনা নেই। তার মেয়াদ পার হয়ে গিয়েছে বলে জানানো হচ্ছে। অর্থাৎ মেয়র হিসাবে ইশরাক হোসেনের শপথ নেওয়া প্রায় এখন বিসবাও জলে। অন্যদিকে কেউ বলছে, মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে মন্ত্রণালয়ের কর্ণধার আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। যার পদত্যাগ চাইছে বিএনপি। ইশরাক হোসেনের প্রসঙ্গে অনেকে তাকেই দায়ী করে। আসলে অনেকে বলছে, এনসিপি যেহেতু চাইছে না ইশরাক হোসেন মেয়র হোক, সেই কারণেই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এমন করছেন। এনসিপির নানা কথা বার্তা তেও দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ এনসিপি যেটা চাইছে, সেটাই করছে সরকার। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে এনসিপির ওপর। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, যদি সরকার সরে না দাঁড়ায়, তবে আর সমালোচনা নয়, বড়সড়ো বিপদে আসতে পারে সরকারের উপর। অর্থাৎ আরও একবার সামনে এল সরকার ও বিএনপির মধ্যে সংঘাত। বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান মন্তব্য করেছে, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করাতে হবে। এছাড়াও বেশ কিছু মন্তব্য করছে বিএনপি। কিন্তু অনেকে বলছে বিএনপি সরকারের বিরোধিতা করলেও তেমন কোন জোরালো চাপ তৈরি করতে পারেনি সরকারের উপর। এটি কি ইচ্ছা করে? বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা আছে বলেই কি সরকারের ওপর চাপ তৈরি করছে না তারা? আসলে অনেকে বলে থাকেন, বিএনপি শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করছে। আর সেই বিতর্ক এড়ানোর জন্যই সরকারের ওপর তেমন কোনও চাপ দিচ্ছে না? তবে জাপানে বসে মোহাম্মদ ইউনুস ডিসেম্বরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বলতে গিয়ে তিনি বলেন একটিমাত্র রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে। অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন, বাকি রাজনৈতিক দলগুলি সরকারের পক্ষে রয়েছে। অর্থাৎ বিএনপিকে খাটো করেই দেখা হচ্ছে সরকারের তরফে। পরিস্থিতিতে বিএনপি এবং সরকারের সংঘাত প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এখন দেখার, বিএনপির কি করনীয়।












Discussion about this post