এই মুহূর্তে বাংলাদেশে 5সামরিক অভ্যুত্থান নিয়ে তুমুল জল্পনা চলছে। নির্বাচন নিয়ে ক্রমাগত টানাপোড়েনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানের যোগ দিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশের বায়ুসেনা এবং বাংলাদেশের নৌসেনার প্রধানরাও। সূত্রের খবর, ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান দাবি করেন, আগামিদিনেও শান্তিরক্ষার জন্য বাংলাদেশের বাহিনীকে ডাকবে রাষ্ট্রসংঘ, তখনই তাতে সাড়া দেওয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানে বাংলাদেশের প্রতিজ্ঞার বীজ রোপণ করা আছে, এই পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সবসময় প্রস্তুত আছে এবং সর্বদা নিজেদের উজাড় করে দেবে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এটা আরও একবার মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য সতর্কবার্তা। জানা যাচ্ছে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ফোন করেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে। দুজনের মধ্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে।
আসলে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে হচ্ছেটা কি? মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে অবৈধ সেটা এই মুহূর্তে দিনের আলোর মতন পরিষ্কার। এখন যে দাবিটা উঠছে বাংলাদেশ সেটা আরো মারাত্মক। সেটা হল ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। গত ২১ মে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভিতর এক অফিসার্স অ্যাড্রেস করেছিলেন। যত কান্ড সেখান থেকেই। তিনি সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে যা যা বলেছিলেন তা ছিল মূলত মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য ডেডলাইন। সেনাপ্রধান পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে না হলে সেনাবাহিনী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেনাপ্রধান এক সপ্তাহ পরেও একই দাবি করেছেন। এদিকে, মুহাম্মদ ইউনূস জাপান সফরে রয়েছেন। তিনি খুব শীঘ্রই ফিরবেন। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যা পরিস্থিতি, তাতে মুহাম্মদ ইউনূসই কার্যত একঘরে হয়ে পড়ছেন। কারণ বিএনপির নেতৃত্বে বারোটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে তারা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চান। যেখানে মুহাম্মদ ইউনূস জাপান থেকেই দাবি করেছিলেন একটি মাত্র রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে। অর্থাৎ, ইউনূসের টার্গেট ছিল বিএনপি। কিন্তু এক দু দিনের মধ্যে খেলা ঘুরে গেল এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তার সহযোগীরা একযোগে ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে।
এর অর্থ হল, মুহাম্মদ ইউনুও মিথ্যাবাদী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল এই মুহূর্তে দুই ভাগে বিভক্ত। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা ইউনূসের জন্য একটা বড় ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও অপ্রাসঙ্গিক করে দেবেন। সেখানে জামাত বা জামাতপন্থী জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ফ্রন্টলাইনে টেনে নিয়ে আসবেন। কিন্তু কোনটাই হয়নি। জাতীয় নাগরিক পার্টি এখনও, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত নয়। যেখানে বিএনপি এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। তাহলে বিএনপি’র কথা না শুনে বা তাদের দাবি না মেনে মুহাম্মদ ইউনুস বেশিদূর যেতে পারবেন না। এমনটাই মনে করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা যারা নিতে পারে তারা হল, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। জানা যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনা ইতিমধ্যেই অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টাদদের ঘিরে ধরতে শুরু করেছে। সেনাবাহিনী খুবই কৌশলে ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিচ্ছে। প্রথম উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা।
যদিও প্রকাশ্যে সেনাবাহিনী এটা অস্বীকার করেছে, কিন্তু ভিতরের খবর খলিলুরকে ইতিমধ্যেই দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরেই করতে হবে বলে ক্রমাগত চাপ দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে যে মানবিক করিডোর দেওয়া নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার তা আপাতত হিমঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাপ্রধান মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান নিয়ে যে মন্তব্য করছেন, তাতে স্পষ্ট তিনি কি চাইছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন ইস্যুতে সেনাপ্রধান এখনও অনড়। বৃহস্পতিবার ভারতও স্পষ্ট করেছে নিজেদের অবস্থান।প্রথমে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের দাবি এবং পরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ফোন বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে। জাপান থেকে ফেরার পরই মুহাম্মদ ইউনূসকে বড় ধরণের প্রতিরোধের সামনে পড়তে হবে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।












Discussion about this post