ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য, যেটিকে স্পর্শকাতর এলাকা বলা হয়, সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করছে ভারত। বিশেষত শিলিগুড়ি করিডোরে নজর দিচ্ছে ভারত সরকার। যদি বাইরে থেকে, বিশেষত বাংলাদেশ থেকে কোনও রকম আক্রমণের সম্ভাবনা দেখা যায়, যাতে সহজেই প্রতিহত করতে পারে দেশ। শিলিগুড়ি করিডোরে রাফাল যুদ্ধবিমান এবং এস 400 মোতায়েন করেছে ভারত। কার্যত একটি যুদ্ধক্ষেত্রে সাজ সাজ রব লক্ষ্য করা যাচ্ছে চিকেন নেক এলাকায়। অন্তত প্রস্তুতি বা তৎপরতা দেখলে সেটাই অনুমান করা যায়। ভারত পাকিস্তান সংঘর্ষ থামতেই এখন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে গোটা প্রতিরক্ষা ও সামরিক বাহিনী এখন পূর্ণ দৃষ্টি দিয়েছে চিকেন নেক এলাকায়, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাংলাদেশ যে ভাবে ভারত বিরোধিতা করছে, গত কয়েকমাসে যেভাবে প্রকট হয় উঠেছে ভারত বিরোধিতা, তাতে ভারত যে বাংলাদেশকে চারিদিক থেকে ঘিরে ধরবে, সেটাই স্বাভাবিক। ব্যবসা, বাণিজ্য থেকে একাধিক দিকে ঘিরে রেখেছে বাংলাদেশকে। এদিকে যেভাবে চিকেন নেক নিয়ে তৎপরতা নিচ্ছে ভারত, সেটার পিছনে যে কারণেই থাকুক না কেন, বিপদে পড়ার সব থেকে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যে কারণগুলি রয়েছে, তারমধ্যে একটি হল, ভারত ভুটানের কাছে সাম্প্রতিক চীনের মহড়া। আর একটি অন্যতম কারণ হল, মহম্মদ ইউনূসের সরকারের আমলে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্পর্ক। সেটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিশেষ করে যখন সম্প্রতি পাকিস্তানের আইএসআই বাংলাদেশ সফর করে গিয়েছে। সেখানে ভারত তো নজর দেবেই। এছাড়াও সম্প্রতি যেভাবে বাংলাদশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস দিনের পর দিন ভারতের সাতটি রাজ্য কে নিয়ে মন্তব্য করেছেন, সে দেশের মৌলবাদী নেতারা যে ভাবে ভারতের স্পর্শকাতর এলাকা নিয়ে মন্তব্য করেছে, তাতে চুপ করে থাকবে না ভারত, সেটা বলাই বাহুল্য। এদিকে বাংলাদেশ লালমনিরহাটে এয়ার বেস তৈরিতে উদ্যোগ নিয়েছে। যেটির জন্য চীনের সহায়তা নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। কারণ এটি চালু হলে ভারত সীমান্তের মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে চীন এবং পাকিস্তানের নজরদারি অতি মাত্রায় বাড়বে। স্বাভাবিকভাবেই এক্ষেত্রেও ভারত চুপ করে থাকবে না। পাল্টা ভারতের ত্রিপুরাতে একটি পরিত্যাক্ত এয়ার বেস রয়েছে। সেটি কৈলা শহরে। জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধের সময় এই এয়ার বেস ব্যবহার করা হয়েছিল। এটিও বাংলাদেশের বর্ডারের কাছে। এই এয়ার বেসটি তৈরি করতে পারলে, ভারত যেমন বাংলাদেশকে দমিয়ে রাখতে পারবে, তেমন বাংলাদেশ যদি ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে কোনও হুমকি দেয়, তবে ভারতও পাল্টা তাদের চিকেন নেকের উপর আঘাত হানতে পারবে। ভারত যেগুলি করছে, তাতে শুধুমাত্র দেশের সুরক্ষার বিষয় আছে তা নয়, পাশাপাশি বাংলাদেশকে বোঝাচ্ছে, ভারতে কিছু করার পরিকল্পনা করা হলে, চিকেন নেক হল লাল বর্ডার। এর সঙ্গে ভারতের সেভেন সিস্টারস এর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপর খানিকটা নির্ভর ছিল। কিন্তু এবার সেই নির্ভরতা কাটিয়ে কলকাতা থেকে সেভেন সিস্টার্স হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত একটি রুট করছে, যেটি তৈরি করতে ব্যয় করছে ভারত ২২ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে বাংলাদেশ ভারত থেকে বাঁচার জন্য একটি যুদ্ধবিমান কিনছে চীন থেকে। যে যুদ্ধবিমান পাকিস্তান দাবি করেছে ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমানকে নাকি তারা ভূপাতিত করেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভুলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত কোনওভাবে বাংলাদেশকে আক্রমণ করলে, আদেও কি কোনওভাবে পেরে উঠবে ইউনূসের দেশ? চীন, পাকিস্তান থেকে সাহায্য উড়ে এলেও বাংলাদেশ নিজেদের মাটি বাঁচাতে পারবে কিনা, সেটা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। আসলে বাংলাদেশের কর্মকাণ্ড
এখন হাস্যকর হয়ে গিয়েছে বিশ্ব দরবারে। আসলে বাংলাদেশ হঠকারী হয়ে ভারত বিরোধিতা করতে গিয়ে ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক দিচ্ছে। এদিকে গত নয় মাসে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য আমদানি সবথেকে বেশি বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন বাস্তবতা বোঝা প্রয়োজন বাংলাদেশের। যুদ্ধবিমান কেনা, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি.. এগুলি এখন বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। অর্থনৈতিক গ্রাফ্ট যেভাবে ধীরে ধীরে নামছে, তাতে কোন কোন শিল্পপতি বলতে বাধ্য হচ্ছেন, দুর্ভিক্ষ না দেখা দেয় বাংলাদেশে। আর সেই জায়গায় দাড়িয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতকে চোখ রাঙাচ্ছে। তাতে গোটা দেশের কি পরিণতি হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা ভেবেই আঁতকে উঠছেন বাংলাদেশের বহু মানুষ।












Discussion about this post