গোটা বিশ্বের বহুমুখী চাপে বিপর্যস্ত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস দেশে নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি শুরু করলেও, এই চাপের কাছে নতিস্বীকার করে চলতি বছরে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষমতালোভী ইউনুসের স্বপ্ন ছিল অনির্বাচিত সরকারে থেকে এই ক্ষমতার সিংহাসন ধরে রাখা। কিন্তু এবার তার এই স্বপ্নভঙ্গ করলো সেদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।
গত ২১ শে মে সেনাপ্রধান সেনাবাহিনীর দরবারে বেশ কিছু ভয়ঙ্কর বার্তা দিলেন দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে তারপর প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস প্রকাশ্যে আনলেন তার পদত্যাগ করার নাটক। গোটা দেশে যখন তার পদত্যাগের ইচ্ছাকে ঘিরে খুব বেশি আলোড়ন করতে দেখা গেল না, তারপর তিনি পিছু হঠার চেষ্টা করবেন। ২৪শে মে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলটিকে নিয়ে বৈঠকের পর সেই বৈঠকেই বিএনপি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সেনা প্রধানের দেখানো পথেই তারা হাঁটবেন, নইতে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হতে পারে। অন্তর্ভুক্তি সরকারের আমলে এই প্রথম বিএনপির তরফে এত স্পষ্ট দাবি করা হলো। এর আগে ও বিএনপিকে সরব হতে দেখা গিয়েছে কিন্তু সেক্ষেত্রে স্পষ্ট কোন দাবি আসেনি তাদের তরফে। কারণ তখন তারা জানতো না নির্বাচনের পথ কোন দিকে এগোচ্ছে? সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা? সেক্ষেত্রে তারা ভাবতে শুরু করেছিল নির্বাচন হলে তাদের লাভ খুব বেশি হবে না। কারণ আওয়ামী লীগ ভোটের ময়দানে থাকলে বিএনপি’র জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। তাই নির্বাচন না করে দেশে দুর্নীতি তোলাবাজি চাঁদাবাজি নির্যাতন হলেও তাদের জন্য সেটাই শ্রেয়।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে, এখন প্রতিবাদের সামিল হয়ে স্পষ্ট দাবি করতে হচ্ছে বিএনপিকে। নির্বাচনের দাবি জোড়ালো হচ্ছে, আর সে নির্বাচন যে চলতি মাসেই হবে সেটাও নিশ্চিত হচ্ছেন অনেকেই। কত ১৩ই মে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত দলগুলি থেকে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েছে, ফলে নির্বাচনে আপাতত অংশগ্রহণ করতে পারবেনা আওয়ামী লীগ। এর ফলে পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির জয় লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। এরপর ঢাকায় বড় সমাবেশও করেছে বিএনপি। এর আগে ছাত্রদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বিক্ষোভের মাধ্যমে আম দিক নিষিদ্ধকরণের দাবি তোলে সরকারের কাছে। এই দাবি মেনে সরকার দেশের আওয়ামী লীগের সমস্ত রকম কার্যক্রম বন্ধ করেছেন। এরপর বাকি কাজটাও সম্পন্ন করল নির্বাচন কমিশন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে। পরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা একপ্রকার নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল। অর্থাৎ এ নিবন্ধঃকরণ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থাতেই থাকতে হবে আওয়ামী লীগকে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে সকল মামলা বিচারাধীন সেই সমস্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত সামাজিক মাধ্যম অর্থাৎ অনলাইন ব্যবস্থাপনায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য বা নানা রকম কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
গত বছর চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য মামলা হয়েছে শেখ হাসিনা ও দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু দলের সকল নেতার বিরুদ্ধে বা গোটা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোন মামলা রুজু হয়নি। ফলে এখানে প্রশ্ন উঠছে পরবর্তী নির্বাচনে তবে আওয়ামীলীগ দলটি কেন নিষিদ্ধ হবে? যদিও বিভিন্ন সময়ে সে দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আইনের তোয়াক্কা না করি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে এই ধরনের সিদ্ধান্ত অবিশ্বাস্য কিছু নয়।
কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন হবে, আর সেখানে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে না সেটা হয়তো মেনে নেবে না ভারত। তবে বাংলাদেশের অনেকেই এখন দাবি তুলছে নির্বাচনে কোন দল অংশগ্রহণ করবে আর কোন দল অংশগ্রহণ করবে না সেটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, ভারত সেখানে হস্তক্ষেপ প করতে পারে না । কিন্তু ২০২৪-এ নির্বাচনের সময় দেখা গিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকারকে হঠাতে আমেরিকা শহর পশ্চিমা দেশ গুলি উঠে পড়ে দেখেছিল। এমনকি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য মার্কিন ডিপ স্টেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিনে করা হয়েছিল। আবার মিয়ানমার সরকারকে হঠাতে এখন মানবিক করিডোর গড়ার ব্যবস্থাপনা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাহলে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত কেন সে দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সেই প্রশ্নটা উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ক্ষমতা থেকে মোঃ ইউনুস কে হঠাৎ এ ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের। এখন প্রস্তুত রয়েছে সেনাপ্রধান। ভারতের সহায়তাতেই আমেরিকার বিরোধিতা করতে সচেষ্টাও হচ্ছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।












Discussion about this post