পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ ভারত বিরোধিতার ফল ভুগতে শুরু করলো।
পহেলগাও এর সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের প্রত্যাঘাত অপারেশন সিঁদুর। এরপর থেকেই ভারতের নিশানয় চলে এসেছে ইউনূসের বাংলাদেশ। বিভিন্ন সময় এই সরকারের উপদেষ্টা ও প্রাক্তন সেনাকর্তাদের তরফ থেকে এসেছে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য দপ্তরের হুঁশিয়ারি, যা আজও অব্যাহত। কিন্তু এবার ভারত উত্তর পূর্বাঞ্চলে ল্যান্ড লক করছে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে যখন দেশের অন্তরে চাপে পড়ছে মোহাম্মদ ইউনুস তখন ভারতের চাপে আরো বিপর্যস্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশের চার পাশ ঘিরে ফেলছে ভারত।এ উন্নয়ন অবকাঠামোতে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বাকি তিন দিকে সড়ক ও রেলপথ থাকছে।
উত্তরে চিকেন নেকে ভারতের মিসাইল ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকছে।
এসব দিক বিবেচনা করলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চার পাশ ঘিরে ভারতের এ ধরনের অবকাঠামো সামরিক আগ্রাসনে ব্যবহার হতে পারে কি না সে প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। আবার চাপে পরতে হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানউপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে। আবার নিজের দেশের অন্তরেও নির্বাচন নিয়ে চাপে পড়তে হচ্ছে এই সরকারকে। নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা ও দাবির পরও সে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন চলতি বছর ডিসেম্বরে নয়, কেন আগামী বছর জুন পর্যন্ত নিতে হবে? এই চিন্তাটি এখন অস্বস্তিতে ফেলেছে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে। বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, নির্বাচন নিয়ে যেমন রয়েছে সংশয় তেমনি সন্দেহ। নানাভাবে নির্বাচন বিলম্ব করার জন্য কিছু দৃশ্যপট তৈরি করা হচ্ছে বর্তমান সরকার তরফে। এমতাবস্থায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির নেতারা ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিও জানিয়েছেন। যদি এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফ থেকে কোনরকম ঘোষণা না আসায় হতাশ বিএনপি। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দলটি। এই সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির তরফে বলা হয়েছে, “সরকারের কাছে নির্বাচন বিষয়ে আমরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলাম। সেটি হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলোচনার বিষয়ে তার প্রেস সচিবের মাধ্যমে সরকারের যে বক্তব্য পাওয়া গেছে, তাতে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনও রোডম্যাপের ঘোষণা না থাকায় বিএনপি হতাশ হয়েছে।”
অর্থাৎ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি তাদের লড়াই জারি রেখেছে সেটা স্পষ্ট হচ্ছে তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে।
আবার ভারতের ‘পুশ ব্যাক’ এ উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দাবী করা হচ্ছে ভারতের এই পুশ ইন বাড়ায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তারা এ ধরনের কার্যকলাপকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টাদের অভিমত গত পাঁচই অগাস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আসার কারণে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে এই ‘পুশ-ইন’কে ব্যবহার করছে ভারত।
প্রসঙ্গত,গত বছর চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য মামলা হয়েছে শেখ হাসিনা ও দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু দলের সকল নেতার বিরুদ্ধে বা গোটা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোন মামলা রুজু হয়নি। ফলে এখানে প্রশ্ন উঠছে পরবর্তী নির্বাচনে তবে আওয়ামীলীগ দলটি কেন নিষিদ্ধ হবে? যদিও বিভিন্ন সময়ে সে দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আইনের তোয়াক্কা না করি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে এই ধরনের সিদ্ধান্ত অবিশ্বাস্য কিছু নয়।
কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন হবে, আর সেখানে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে না সেটা হয়তো মেনে নেবে না ভারত। তবে বাংলাদেশের অনেকেই এখন দাবি তুলছে নির্বাচনে কোন দল অংশগ্রহণ করবে আর কোন দল অংশগ্রহণ করবে না সেটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, ভারত সেখানে হস্তক্ষেপ প করতে পারে না । কিন্তু ২০২৪-এ নির্বাচনের সময় দেখা গিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকারকে হঠাতে আমেরিকা শহর পশ্চিমা দেশ গুলি উঠে পড়ে দেখেছিল। এমনকি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য মার্কিন ডিপ স্টেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিনে করা হয়েছিল। আবার মিয়ানমার সরকারকে হঠাতে এখন মানবিক করিডোর গড়ার ব্যবস্থাপনা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাহলে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত কেন সে দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সেই প্রশ্নটা উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে।












Discussion about this post