বাংলাদেশে চলতি বছরের নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নির্বাচন বিলম্বিত করার কোন বিকল্প পথ খোলা আছে কি? কিন্তু ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের তরফে দাবি করা হচ্ছে একটি তত্ত্বের কাজ শুরু করেছে অন্তবর্তী সরকার নির্বাচনকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে। শেষমেষ বিকল্প পথেই হাঁটতে শুরু করলো ইউনুস সরকার ও ছাত্রদের রাজনৈতিক দল এনসিপি। কিন্তু এই বিকল্প পথটি কি?
বাংলাদেশের সরকার পতনের পর মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, এরপর এই সরকারের তত্ত্বাবধানে দেশে নির্বাচন এবং স্থায়ী সরকার গঠন করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু শুরু থেকেই নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি লক্ষ্য করা গিয়েছে অন্তবর্তী সরকারের অন্দরে। কিন্তু দিন যতই গেছে নির্বাচন নিয়ে ততই দৃঢ় অবস্থান নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিএনপি সহ সেদেশের প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক গুলিই চলতি বছর ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবি জানাতে শুরু করেছে। ফোটে বিভিন্ন দিক থেকে চাপে পড়তে হয়েছে অন্তর্ভুক্তি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসকে। এবার এই বিপুল পরিমাণ চাপ উপেক্ষা করে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে কোন কোন পন্থা অবলম্বন করতে পারে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
আরে বিকল্প পন্থা হিসেবেই সম্প্রতি দেখা গেছে এনসিপির তরফে জানানো হয়েছে , স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে আমরা একমত আছি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
আবার জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আমাদের প্রস্তাবনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন হতে হবে।
অর্থাৎ এনসিপি ও জামায়াতের তরফ থেকে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি তুলে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে আগে স্থানীয় নির্বাচন করিয়ে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল শুরু করেছে ইউনু সরকার। অর্থাৎ গণমাধ্যমের তরফ থেকে একেবারে স্পষ্ট করা হলো সরকারের এই কৌশলটি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।
আর এই কৌশলটিকে প্রথমেই বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন জামাত ও এন সি পি তরফে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি তুলে জনমত তৈরি করবে, এরপর গোটা দেশজুড়ে স্থানীয় নির্বাচন অর্থাৎ জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ পৌরসভা বিধান পরিষদ সমস্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনের সময় লাগবে কমপক্ষে দু বছর। অর্থাৎ এই অতিরিক্ত দু বছর সময় হাতে পাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর জাতীয় নির্বাচনের জন্য আরো কমপক্ষে এক বছর সময় হাতে পাবে এই সরকার অর্থাৎ এই তিন বছরের অন্তর্ভুক্তিকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি যেমন রাজনীতিতে তাদের অস্তিত্ব শক্তিশালী করে তুলতে পারবে তেমনি জামাতে ইসলামী তাদের পক্ষে আরও দৃঢ় করতে পারবে জনগণ। অর্থাৎ অন্তর্ভুক্তির সরকার এবং সেই সরকারের মাথায় যতদিন মোহাম্মদ ইউনুস থাকবে ততদিন রাজনীতিতে বিপদের সম্মুখীন হতে হবে না ছাত্রদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকে। আর ক্ষমতার ইউনুস তিনিও থেকে যেতে পারবেন ক্ষমতার অলিন্দে তবে যদি এই বিকল্প কৌশল কাজে না দেয় সে ক্ষেত্রেও হয়তো আরো নতুন কোন কৌশলের কথা ইতিমধ্যেই ভেবে রেখেছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।












Discussion about this post