বাংলাদেশের ইউনূস সরকার যে ভারতের থেকে অনেকটাই সরে এসে পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেছে এটা পরিষ্কার। এবার বাংলাদেশ সেনাপ্রধানকে এড়িয়ে গোপনে পাকিস্তান সেনার সঙ্গে সমঝোতা করার প্রমান সামনে আসছে। কি চলছে মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশে?
গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয় একগণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। পরবর্তী সময় যদিও প্রমান হয়েছে সেটা ছিল পরিকল্পিত এক চক্রান্ত। যা বাংলাদেশের বর্তমান শাসক মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই স্বীকার করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় এসেছেন। তারপর থেকে ক্রমাগত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভারত সরকার বাংলাদেশের জন্য ট্রান্সক্রিপমেন্ট সুবিধা স্থগিত করেছে। স্থলপথে বাণিজ্য বন্ধ করেছে। কিন্তু ইউনুস সরকারের মতিগতি তাতেও পাল্টায়নি এর প্রমাণ পাকিস্তানের সঙ্গে মাখোমাখো সম্পর্ক। ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্সি গুলি নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে বাংলাদেশে। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটা অংশ খোলাখুলিভাবেই পাকিস্তানে যাতায়াত করছেন। যেমন লেফটান্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। তিনি চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রওয়ালপিন্ডি গিয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপরই পাকিস্তানে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তিনি ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুজনের সাক্ষাৎকারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
কিন্তু যে ছবি ভাইরাল হয়নি সেটা হল, পাক গুপ্তচর সংস্থার শীর্ষ কর্তা ও পাক সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের বাংলাদেশ সফর। জানা যায় চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তান সেনার উচ্চ পদস্থ কর্তারা ঢাকায় এসেছিলেন, সঙ্গে ছিলেন আইএসআই কর্তারাও। তাদের সফর শুধুমাত্র ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তাঁরা গোপনে রংপুর, লালমনিরহাট ও চট্টগ্রামের রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়েছিলেন। পাক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ সেনার একটা অংশ এবং জামাত নেতারা। সূত্রের খবর, এই সবকিছুই চলছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে অন্ধকারে রেখে। তিনি মোটেই পাকিস্তানের সঙ্গে এই মাখামাখি পছন্দ করছেন না। তাই লেফটান্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে নজরবন্দি করেছিলেন। জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশের সমর্থন পেয়ে কিছুটা হলেও কর্তৃত্ব বজায় রেখেছেন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস তুরূপের তাস হিসেবে খলিলুর রহমানকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করে সেনাপ্রধানের গুরুত্ব কমাতে চেয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে তিনি সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু রাখাইন মানবিক করিডর নিয়ে বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের অনড় মনোভাব ডক্টর ইউনুস ও খলিলুর রহমানকে চাপে ফেলে দিয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মোবাইল ফোন নজরদারি, হস্তক্ষেপ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নজরদারির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে একসাথে কাজ করার ব্যাপারে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। ২৫ মে পাকিস্তানের ন্যাশনাল রেডিও অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজমত শাব্বির ঢাকায় পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে দুজন উচ্চ পদস্থ কর্মীও ছিলেন। উল্লেথ্য, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা উৎপাদন সংস্থা, এনআরটিসি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। পাঁচ দিনের সফরে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাব্বির বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি এবং জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা এনটিএমসি-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। জানা যাচ্ছে, মোবাইল ফোন ইন্টারসেপশন এবং সাইবারস্পেস যুদ্ধের উপর প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা ভাগাভাগির বিষয়ে সহমত হয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। পাকিস্তানের সংস্থা এনআরটিসি এবং বাংলাদেশের বিটিআরসি যৌথভাবে সামরিক রেডিও, ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামিং, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, বিস্ফোরক অস্ত্র নিষ্পত্তি এবং রোবোটিক্স, এবং এআই এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রযুক্তি তৈরি এবং বিতরণ করার জন্য কাজ করবে। বোঝাই যাচ্ছে, বাংলাদেশকে নিয়ে পাকিস্তানের পরিকল্পনা অনেকটাই বড়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে পাকিস্তান ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি এবং নাশকতামূলক কাজ করতে চাইছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে পূর্ব সীমান্তে ভারতের সামরিক ঘাঁটিগুলিতেও নজরদারি বাড়াতে চাইছে পাকিস্তান। এটা ভারতের জন্য বড় হুমকি বলেই মনে করা হচ্ছে।












Discussion about this post